ঋণ শোধের আশায় প্রথমবার সাগরে গিয়ে নিখোঁজ আক্কাস

Printed Edition

হারুন অর রশিদ গলাচিপা (পটুয়াখালী)

জীবিকার তাগিদে ও ঋণের টাকা পরিশোধের আশায় প্রথমবার গভীর সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন পটুয়াখালীর গলাচিপার ২৫ বছর বয়সী আক্কাস। বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির তিন দিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। একই ঘটনায় আরো পাঁচ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজও ব্যাহত হচ্ছে।

নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে কুয়াকাটা উপকূল থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দণি-পূর্বে প্রবল স্রোত ও কয়েক মিটার উচ্চতার ঢেউয়ের আঘাতে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা ১১ জেলের মধ্যে পাঁচজন জীবিত উদ্ধার হলেও নিখোঁজ রয়েছেন এমাদুল খাঁ (৪৫), হারুন হাওলাদার (৪৫), ফোরকান সিকদার (৫৫), সায়েম (২০), আল-আমিন (২২) এবং আক্কাস (২৫)।

পারিবারিক সূত্র জানায়, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা আক্কাস বাবার মৃত্যুর পর দীর্ঘ দিন ঢাকায় গামেন্টে চাকরি করতেন। পরে গলাচিপায় নানা বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। ছয় বছর আগে রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের প্রাপ্তি বেগমকে বিয়ে করেন। তাদের সাড়ে তিন বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

স্বজনরা জানান, প্রায় ৬০ হাজার টাকার ঋণ পরিশোধ এবং ভবিষ্যতে একটি মাছ ধরার নৌকা কেনার স্বপ্ন পূরণের জন্য প্রথমবার শ্রমিক হিসেবে ট্রলারে যোগ দেন আক্কাস। কিন্তু সেই যাত্রাই তার পরিবারের জন্য অনিশ্চয়তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গলাচিপা পৌরসভার ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখা যায় শোকাবহ পরিবেশ। স্ত্রী প্রাপ্তি বেগম বলেন, অর্থকষ্টের কারণে স্বামী সাগরে যেতে বাধ্য হন। তিনি ভালো সাঁতারও জানতেন না। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। সাড়ে তিন বছরের ছেলে আলভি বাবার খোঁজে প্রতিনিয়ত কান্না করছে।

আক্কাসের শ্বশুর হানিফ মিয়া জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই তিনি কুয়াকাটা উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় নিখোঁজ জামাইয়ের খোঁজ করছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যদের একমাত্র প্রত্যাশা, অন্তত তার লাশটি যেন ফিরে পাওয়া যায়।

কুয়াকাটা নৌ-পুলিশের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মো: মনিরুজ্জামান বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হলেও নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।