গ্রিভস বীরত্বে ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট ড্র

Printed Edition
khela-5
কেমার রোচ

ক্রীড়া ডেস্ক

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টের দীর্ঘ ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে সপ্তম বথ্যাটার হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করলেন জাস্টিন গ্রিভস। শাই হোপের পর কেমার রোচের সাথে দুর্দান্ত দু’টি জুটিতে হতাশায় ডুবল কিউইরা। ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে তার ডাবলসে ভর করে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ল সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকদের গড়া ২৩১ রানের জবাবে ৭৫.৪ ওভারেই ১৬৭ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল ক্যারিবীয়রা। প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেট হারিয়ে ৪৬৬ রানে ইনিংস ঘোষণা করে নিউজিল্যান্ড। ফলে টেস্ট জয়ের জন্য পাহাড়সম ৫৩১ রানের লক্ষ্য পায় উইন্ডিজ।

ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে এই টেস্ট জিততে হলে গড়তে হবে বিশ্বরেকর্ড। এমন সমীকরণে খেলতে নেমে চতুর্থ দিন ৪ উইকেট হারিয়ে ২১২ রানে শেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পঞ্চম দিনে হারায় মাত্র দু’টি উইকেট। আগের দিন সেঞ্চুরি করা হোপ (১১৬) গতকাল আউট হন ১৪০ রানে। হোপ-গ্রিভস জুটিতে আসে ১৯৬ রান। এরপর অধিনায়ক রোস্টন চেজ উইকেটে এসে নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। এবার পেস বোলার কেমার রোচকে নিয়ে প্রতিরোধ আর ম্যাচ বাঁচানোর লড়াই শুরু করেন গ্রিভস।

গ্রিভস-রোচ জুটিতে এক পর্যায়ে টেস্ট জয়ের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সে দিকে না গিয়ে সময় কাটানোর দিকেই মনোযোগী ছিলেন তারা। সেই পথে হেঁটে কথ্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি পেয়ে যান গ্রিভস। এতে টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি করা সপ্তম আর কথ্যারিবিয়ানদের চতুর্থ ব্যাটার হয়ে যান তিনি।

১৯৩০ সালের এপ্রিল মাসে কিংস্টনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি (২২৩) করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের জর্জ হেডলি। দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে এই কৃতিত্ব দেখান ১৯৩৯ সালের মার্চে ডারবানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২১৯ রান করে ইংল্যান্ডের বিল এডরিচ।

উপমহাদেশীয় ব্যাটার সুনীল গাভাস্কার এই তালিকায় তৃতীয়। ১৯৭৯ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন ভারতের এই ব্যাটার। ১৯৮৪ সালের জুন-জুলাইয়ে লন্ডনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি করে এই তালিকায় চতুর্থ ওয়েস্ট ইন্ডিজের গর্ডন গ্রিনিজ। ২০০২ সালের মার্চে ক্রাইস্টচার্চে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন নিউজিল্যান্ডের নাথান অ্যাস্টল। অভিষেক টেস্টে কাইল মায়ার্স ২০২১ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে ২১০ রানে অপরাজিত ছিলেন। আর সব শেষ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি গ্রিভসের।

আর টেস্টের পঞ্চম দিন লোয়ার অর্ডার একজন বথ্যাটারকে নিয়ে ৬৮.১ ওভার কাটিয়ে ১৮০ রানের জুটি গড়েন গ্রিভস। এই জুটি গড়ার পথে তারা ভেঙে দেন শচীন টেন্ডুলকার ও মনোজ প্রভাকরের একটি রেকর্ড। টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে সপ্তম উইকেট জুটিতে এখন সর্বোচ্চ রান তোলার রেকর্ড গ্রিভস ও রোচের (১৮০*)। এর আগে ১৯৯০ সালের ১৬০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছিলেন শচীন ও মনোজ। শেষ পর্যন্ত অবিচ্ছন্ন জুটিতে সফলও হলেন এই দুই ব্যাটার। ৬ উইকেটে ৪৫৭ রান করলে প্রথম টেস্টে ড্র মেনে নেন দুই অধিনায়ক। ৩৮৮ বলে ১৯ চারে ২০২ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচসেরা হন গ্রিভস। ১৮০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আট চারে ২৩৩ বলে ৫৮ রান রোচের।