ঘাটাইলে স্ট্রবেরি চাষে তরুণের সাফল্য, বদলাচ্ছে কৃষির ধারা

Printed Edition
bangla-4
ঘাটাইলে স্ট্রবেরি চাষে তরুণের সাফল্য, বদলাচ্ছে কৃষির ধারা

খাদেমুল ইসলাম মামুন ঘাটাইল (টাঙ্গাইল)

শীতপ্রধান দেশের ফল হিসেবে পরিচিত স্ট্রবেরি এখন বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। বাজারে চাহিদা ও ভালো দাম পাওয়ায় অনেক কৃষকই এ ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। সেই ধারায় ঘাটাইল উপজেলার শোলাকুড়া গ্রামের অনার্সপড়–য়া শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন হয়ে উঠেছেন স্থানীয় সাফল্যের প্রতীক।

মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আব্দুল্লাহ ২০২২ সালে নিজ বাড়ির পাশে পরীক্ষামূলকভাবে ১০০টি চারা রোপণের মাধ্যমে স্ট্রবেরি চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে পরের বছর বাণিজ্যিকভাবে আবাদ সম্প্রসারণ করেন। বর্তমানে তিনি ৭০ শতক জমিতে প্রায় ১০ হাজার গাছ লাগিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে সাজানো গাছে টসটসে লাল ফল ঝুলছে। পরিবারের সদস্যরা ফল সংগ্রহ ও প্যাকেজিংয়ে সহায়তা করছেন। প্রতিদিন স্থানীয় মানুষ বাগান দেখতে ভিড় করছেন; অনেক কৃষকও বাণিজ্যিক চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

আব্দুল্লাহ জানান, চারা ও পরিচর্যাসহ মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। প্রতি গাছ থেকে এক মৌসুমে ১৫-২০ বার ফল সংগ্রহ করা যায় এবং গড়ে ৫০০-৬০০ গ্রাম ফলন মেলে। বর্তমান বাজারদরে প্রতি কেজি স্ট্রবেরি ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ হিসাবে চলতি মৌসুমে সাত-আট লাখ টাকার বিক্রির আশা করছেন তিনি। পাশাপাশি চারা বিক্রি করেও প্রায় দুই লাখ টাকা আয় করেছেন।

তিনি জানান, অক্টোবরের শুরু থেকে ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত চারা রোপণ করা যায়; জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফল সংগ্রহ চলে। অল্প পুঁজিতে বেশি লাভের সম্ভাবনায় ভবিষ্যতে আবাদ আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন, পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এই ফল চাষে আব্দুল্লাহর সাফল্য অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা। কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তরুণ শিক্ষার্থীর এই উদ্যোগ প্রমাণ করছে, আধুনিক পদ্ধতি ও পরিকল্পিত চাষাবাদে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে স্ট্রবেরি।