ইন্দোনেশিয়ায় ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প

Printed Edition

বিবিসি

ইন্দোনেশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় মালুকু সাগরে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে। এতে অন্তত একজন নিহত, বহু ভবন তিগ্রস্ত ও সুনামির ঢেউ সৃষ্টি হয়েছে বলে কর্তৃপ ও প্রত্যদর্শীরা জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৮ মিনিটে মালুকু সাগরের তলদেশের ৩৫ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। এই স্থানটি দেশটির টারনেট দ্বীপের অদূরে।

ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা অন্তরা জানিয়েছে, উত্তর সুলাওয়েসির মানাদো শহরে আংশিক ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে ৭০ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন, আরেকজন ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে পা ভেঙে আহত হয়েছেন। ভবনটি স্থানীয় ক্রীড়া কর্তৃপ ব্যবহার করতো। ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প হলেও কিছু বাসিন্দা বিবিসিকে বলেছেন, এটি গত অন্তত ছয় বছরের মধ্যে তাদের অনুভব করা অন্যতম প্রবল ভূমিকম্প।

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, পাঁচটি এলাকা থেকে সুনামির ঢেউয়ের খবর পাওয়া গেছে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টি শূন্য দশমিক ৭৫ মিটার উচ্চতার ছিল আর এটি উত্তর সুলাওয়েসির উত্তর মিনাহাসা এলাকায় হয়েছে। বিএমকেজি জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর থেকে অন্তত ৫০টি পরাঘাত পর্যবেণ করা হয়েছে, এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটি ৫ দশমিক ৮ মাত্রার ছিল। বিমএকেজি প্রথমে আধা মিটার থেকে ৩ মিটার পর্যন্ত সম্ভাব্য সুনামি হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছিল; কিন্তু পরে তা তুলে নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার যেখানে ভূমিকম্পটি হয়েছে তার আড়াইশ’ কিলোমিটারের মধ্যে গত ৫০ বছরের মধ্যে ৭ মাত্রার বা তার বেশি শক্তির ৯টি ভূমিকম্প হয়েছে; কিন্তু কোনোটিতেই ব্যাপক য়তি হয়নি।

যদিও এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থলের ১৫০ কিলোমিটারের মধ্যে টারনেট ও সুলাওয়েসির মতো ঘনবসতিপূর্ণ দ্বীপ রয়েছে, তারপরও আরো হতাহতের ‘আশঙ্কা কম’ বলে জানিয়েছে ইউএসজিএস।