পথশিশু ও হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থানে সম্ভাবনাময় ভাঙ্গাড়ি ব্যবসা
Printed Edition
মাকসুদুর রহমান পারভেজ লালমোহন (ভোলা)
দ্বীপ জেলা ভোলার লালমোহনে নিম্নবিত্ত পরিবারের হতদরিদ্র নারী ও শিশু-কিশোরদের জন্য কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় ভরসায় পরিণত হয়েছে ভাঙ্গাড়ি ব্যবসা। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক, কাগজ, লোহা, টিনসহ বিভিন্ন বর্জ্য সংগ্রহ ও বিক্রির মাধ্যমে একদিকে শত শত পরিবার সাবলম্বী হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণ কমিয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এক সময় যেসব শিশু-কিশোর কর্মহীনতার কারণে অপকর্মে জড়িয়ে পড়ত, তারা এখন নিয়মিত ভাঙ্গাড়ি সংগ্রহের কাজে যুক্ত হয়ে আয় করছে, ফলে অপরাধ প্রবণতাও ক্রমশ কমছে।
সচেতন মহলের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভাঙ্গাড়ি একটি লাভজনক ও পরিবেশবান্ধব খাত। সরকারি প্রণোদনা, সহজ ঋণ ও কার্যকর তদারকির মাধ্যমে এ খাত বিকশিত হলে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
সরেজমিন দেখা যায়, আগে যত্রতত্র ফেলে দেয়া পলিথিন, বোতল ও পুরাতন কাগজ পরিবেশ দূষণের অন্যতম উৎস ছিল। কিন্তু ভাঙ্গাড়ি ব্যবসার প্রসারে এসব বর্জ্যরে প্রায় শতভাগই এখন পুনঃপ্রক্রিয়াজাত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন পেপার মিল ভাঙ্গাড়ি দোকান থেকে সংগৃহীত কাগজ দিয়ে নতুন কাগজ উৎপাদন করছে। একইভাবে প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার হচ্ছে নতুন পণ্যে।
উপজেলার হাটবাজার, সড়কের মোড় ও চৌমাথায় শতাধিক ভাঙ্গাড়ি দোকান ও আড়ৎ গড়ে উঠেছে। দরিদ্র শ্রমজীবীরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরান প্লাস্টিক বোতল, কাগজ, টিন, বাতিল লোহা, যন্ত্রাংশ ও নষ্ট যানবাহনের অংশ সংগ্রহ করে এসব আড়তে বিক্রি করছেন। ফলস্বরূপ বহু পরিবার আর্থিক সচ্ছলতা ফিরে পেয়েছে। তবে সচেতন মহলের অভিযোগ, শ্রমের মূল অংশটি পথশিশু ও সংগ্রহকারীরা করলেও লভ্যাংশের বড় ভাগ চলে যায় ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের হাতে।
অধিকাংশ ভাঙ্গড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই ট্রেড লাইসেন্সপ্রাপ্ত হওয়ায় ব্যবসার স্বচ্ছতা কিছুটা নিশ্চিত হচ্ছে। রমাগঞ্জ ও ধলীগৌরনগরের ব্যবসায়ীরা জানান, তারা মাঠপর্যায়ের শিশু-কিশোর ও যুবকদের প্রতিদিন গ্রামে ফেরি করার জন্য অগ্রিম অর্থ দিয়ে থাকেন। রমাগঞ্জ ইউনিয়নের আজাহার উদ্দিন রোডের ব্যবসায়ী আলমগীর মিয়া বলেন, তার দোকানে ২৫-৩০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। পাশাপাশি চালু করা একটি কারখানায় প্রতিদিন ২০-২৫ জন পুরুষ ও নারী শ্রমিক কাজ করছেন। পাইকারদের তিনি ব্যক্তি প্রতি ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত আগাম দিয়ে থাকেন, যারা গ্রাম থেকে ভাঙ্গাড়ি সংগ্রহ করে সরবরাহ করেন। চতলার ব্যবসায়ী আব্দুস সহিদ বলেন, প্রতি মাসে দুই-তিন ট্রাক ভাঙ্গাড়ি ঢাকার মিডফোর্ড ও নারায়ণগঞ্জের মিলগুলোতে পাঠানো হয়। একটি ট্রাক কিনে পাঠাতে ১২-১৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়। তিনি স্বল্পসুদে ঋণের দাবি তুলে বলেন, সহজ শর্তে ঋণ পেলে ব্যবসা আরো সম্প্রসারণ সম্ভব।
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ আজিজ বলেন, ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীরা আবেদন করলে পূবালী ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা হয়েছে।