অন্যের খামারে থাকা বৃদ্ধ দম্পতির মানবেতর জীবন

Printed Edition
bangla-2
গরুর খামারে একটি চকিতে থাকেন রমজান আলী ও তার স্ত্রী সাহিদা বেগম : নয়া দিগন্ত

জসিম উদ্দিন খানসামা (দিনাজপুর)

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের ছিট আলোকডিহি এলাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন মো: রমজান আলী (৬৭) ও তার স্ত্রী সাহিদা বেগম। আনসার বাহিনীর সদস্য হিসেবে দীর্ঘ দিন দেশের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন রমজান আলী। অথচ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তার নামে নেই এক টুকরো ভিটেমাটি, নেই মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয়।

ভিটেমাটি না থাকায় গত ১৬ বছর ধরে এই দম্পতি পার্শ্ববর্তী মৃত আলহাজ জয়নাল আবেদীনের একটি খামারে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন। খামারের ভেতরের জরাজীর্ণ ও ভাঙাচোরা একটি ঘরই তাদের একমাত্র ঠিকানা। সরেজমিন দেখা গেছে, কাঠের মাচার ওপর বসে থাকা এই বৃদ্ধ দম্পতির ঘরটিতে নেই নিরাপদ দরজা-জানালা। বৃষ্টি হলেই ভেতরে পানি ঢোকে, শীতের রাতে কনকনে ঠাণ্ডা সরাসরি শরীরে এসে লাগে।

বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর নিয়েও রমজান আলী খামারের গরু, মুরগি দেখাশোনাসহ নানা কাজ করেন। কঠোর এই শ্রমের বিনিময়ে মাস শেষে পান মাত্র এক হাজার টাকা, যা দিয়ে ন্যূনতম জীবনধারণ করাও কঠিন বর্তমান বাজারে।

বড় ছেলে শাহাজাহান আলী জানান, তিনি পাকেরহাট বাজারে ফুটপাথে বাদাম বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চালান। প্রতিদিন খরচ বাদ দিয়ে হাতে থাকে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এই সামান্য আয়ে ছয় সদস্যের পরিবার চালাতে হয়। তাই বাবা-মায়ের ভরণপোষণ করা তার পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না।

বৃদ্ধ দম্পতি কোনো দান বা বিশেষ সুবিধা চান না- শেষ বয়সে তাদের চাওয়া শুধু একটি নিরাপদ ঘর। রমজান আলী বলেন, আর কিছু চাই না, শুধু শান্তিতে ঘুমানোর মতো একটা ছাদ চাই। তার স্ত্রী সাহিদা বেগম বলেন, মানুষের খামারে থাকি, কোনো সরকারি সুবিধাও পাই না। শেষ বয়সে একটু নিরাপদে থাকতে চাই। খামারের মালিক তাহেরা আজিজ বলেন, মানবিক কারণে তারা এই দম্পতিকে থাকতে দিয়েছেন। তবে এ ধরনের পরিবারগুলোর জন্য প্রশাসনিকভাবে কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা ও আবাসন কর্মসূচি জোরদার করা প্রয়োজন। আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আবু খায়ের জানান, বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করেছি। তাদের জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তমিজুল ইসলামও বলেন, দম্পতির পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।