শিক্ষামন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ

ঢাবি ভিসি পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে নিয়াজ আহমদে আবেদন

Printed Edition
3rd-2
শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিচ্ছেন ভিসি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ : নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পাঁচ দিনের মাথায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের (ভিসি) পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। গতকাল রোববার সকালে তিনি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে এই আবেদনপত্র জমা দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভিসি তার বর্তমান প্রশাসনিক পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে মূল পদ ‘উন্নয়ন অধ্যয়ন’ বিভাগের গ্রেড-১ অধ্যাপকের পদে ফেরার জন্য রাষ্ট্রপতি বরাবর এই আবেদন পেশ করেছেন। এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন।

পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার সময় শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন ভিসির সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ, শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। এ সময় অধ্যাপক ড. নিয়াজ ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং গবেষণার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করেন। তিনি পদত্যাগ করলেও দেশের বৃহত্তর শিক্ষাখাতের উন্নয়নে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। শিক্ষামন্ত্রী দেশের এক ক্রান্তিকালীন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশ ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় অসামান্য অবদান রাখার জন্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ জানান, ভিসির অব্যাহতিপত্র গ্রহণ করার চূড়ান্ত এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২৭ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান। ব্যক্তিগত জীবনে উচ্চশিক্ষিত এই অধ্যাপক যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলস থেকে পিএইচডি এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে তিনটি পোস্ট ডক্টরাল ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি এর আগে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি এবং ইউএনডিপি, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন।

পদত্যাগের বিষয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি বলেছিলেন, ‘একটি দায়িত্ব পালনের পর্বে আমরা ভালো পর্যায়ে এসেছি এবং আমি এখন সরে দাঁড়াতে চাই।’ তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নতুন সরকারের কাজের সুবিধার্থে তিনি গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদক্ষেপ নিলেন।