বিসিএলই আমার জন্য লাভজনক

রফিকুল হায়দার ফরহাদ
Printed Edition
khela-2
জাকির হোসেন জিকু
তিন মাস বিসিএল খেলার পর অন্য জেলায় লিগে প্রতিনিধিত্ব করি। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে খ্যাপের ম্যাচে অংশ নেই। এতে যে টাকা আসে তা বিপিএলের চেয়েও বেশি। তাই বিপিএল নয় বিসিএলই আমার পছন্দ- জাকির হোসেন জিকু।

শীর্ষ লেভেলের ফুটবলে খেলার স্বপ্ন কার না থাকে। বাংলাদেশের টপ লেভেলের ফুটবল মানেই প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ। বিপিএলে খেলার সুযোগ পারিশ্রমিক যেমন বেশি পাওয়া যায় তেমনি বাড়তি কভারেজ এবং উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ। তাই সব ফুটবলারই ছোটেন বিপিএলের পানে। অথচ ব্যতিক্রম জাকির হোসেন জিকু। ৬/৭ বছর বিপিএল ফুটবল খেলা এই ফরোয়ার্ড এখন আর খেলতেই চান না পেশাদার লিগের শীর্ষ এই স্তরে। বরং তার পছন্দ বিসিএল। বিসিএলে টাকা কম পেলেও স্বল্প সময়ে এই লিগ শেষ হওয়ায় অন্য জেলার লিগ খেলার সুযোগ মেলে। জেলার ওই লিগগুলো থেকে এবং বিভিন্ন স্থানে খ্যাপ খেলা। এতে যে টাকা পান তা বিপিএলের পারিশ্রমিকের চেয়েও বেশি। তাই বিপিএল ছেড়ে বিসিএলেই ব্যস্ত তিনি। এ নিয়ে টানা পাঁচ মৌসুম বিসিএল খেলছেন ময়মনসিংহের এই ছেলে। এই ধারাক্রমে সাফল্যেরও সাক্ষী জিকু। পরপর তিন সিজনে তিন ক্লাবকে তুলেছেন প্রিমিয়ার লিগে। এবার লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন ফাইটিং দল গড়া আরামবাগ ক্রীড়া সংঘকে শিরোপা এনে দেয়া। ইতোমধ্যে টানা তিন জয় পেয়েছে আকবর হোসেন রিদনের কোচিংয়ে থাকা দলটি। যদিও এখন পর্যন্ত এবার গোলের দেখা পাননি জিকু।

ফুটবল থেকে হারিয়ে যাওয়া বিজেএমসি দিয়ে ২০১১-১২ সিজনে প্রিমিয়ার ফুটবলে খেলা শুরু এই স্ট্রাইকারের। সেখানে চার বছর খেলার পর যোগ দেন লে. শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবে। ওই ক্লাবে দুই সিজন থেকে ঠিকানা বদল করে আরামাবগ ক্রীড়া সংঘে। এরপর আর খেলা হয়নি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে। ২০২০-২১ সিজনে যোগ দেন ফর্টিস এফসিতে। দুই সিজন ছিলেন ফর্টিসে। পরের বছর ব্রাদার্স ইউনিয়নে খেলে গত মৌসুমে যোগ দেয়া ঢাকা ওয়ান্ডারার্সে। আর এবার তিনি মতিঝিল ক্লাব পাড়ার দল আরামবাগের সদস্য।

বিসিএলে খেলার সময় ২০২১-২২ সিজনে ফর্টিস এফসিকে চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন। গোল করেছেন ৯টি। অ্যাসিস্ট ৫ গোলে। পরের বছর ব্রাদার্স ইউনিয়নকে প্রিমিয়ারে ফেরাতেও ভূমিকা তার। তার ৯ গোলের উপর ভর করে শিরোপা জয় গোপীবাগের দলের। সতীর্থরা ৪ গোল করেছেন তার পাসে। গত বছর ওয়ান্ডারার্সকে রানার্সআপ করিয়েছেন। গোল করেছেন ৪টি। এতেই শত বছরের পুরনো এই ক্লাব প্রথমবারের মতো প্রমোশন পেয়েছে বিপিএলে। এ ছাড়া ২০০৯ সালে তার গোলেই খুলনা ডিএফএ কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল খুলনা মোহামেডান। এ ছাড়া চট্টগ্রামের বন্দর দলকে প্রথম বিভাগ থেকে প্রিমিয়ারে তোলার ক্ষেত্রেও ভূমিকা ছিল জিকুর।

ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির আগে প্রিমিয়ারের জন্য ভালো দলই গড়েছিল আরামবাগ। কিন্তু ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে ক্লাবটি বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে জিকুরা বিপাকে পড়েন। প্রিমিয়ারে আর খেলা হয়নি। এরপর সেই যে বিসিএলে যাত্রা শুরু আর তার ফেরা হয়নি বিপিএলে। প্রিমিয়ারে আর খেলার ইচ্ছেও নেই। জিকুর মতে, ‘আমি শেষ দিকে বিপিএল থেকে তেমন টাকা পাচ্ছিলাম না। কিন্তু ক্লাবে লম্বা সময় ধরেই থাকতে হতো। একেতো টাকা নেই। তার উপর না খেলেই ক্লাবে পড়ে থাকা। সেই তুলনায় বিসিএল শেষ হয় তিন মাসে। এই লিগে খেলার যেমন সুযোগ বেশি তেমনি পারিশ্রমিক এবং বোনাসও ভালো পাচ্ছি।’ তিনি আরো যোগ করেন, তিন মাস বিসিএল খেলার পর বাকি সময়ে আমি চট্টগ্রাম, লিগ, খুলনা লিগ এবং যশোর লিগ খেলি। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে খ্যাপ খেলি। এতে সারা বছর যে টাকা আসে তা বিপিএলের টাকার চেয়ে অনেক বেশি। তাই আমার কাছে বিসিএলই লাভজনক। খেলতে চাই এই লিগেই।’

২০১৯-২০ সিজনে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের জার্সি গায়ে ঢাকা আবাহনীর জার্সিতে জোড়া গোল করেন। এই দুই গোল তার স্মরণীয়। ওই ক্লাবের হয়ে অবশ্য আর গোল করা হয়নি তার। এছাড়া বিজেএমসির হয়ে ১১ গোল করেন তিনি। কোনো লেভেলেই জাতীয় দলে খেলা হয়নি জিকুর। তবে অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছিলেন দুই সন্তানের এই বাবা।