হাম ও উপসর্গে আরো ৮ জনের মৃত্যু আক্রান্ত ১,৪২১
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
সারা দেশে হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরো আট জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে একজন হাম আক্রান্ত হয়েই মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। বাকি সাতজনের হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে এক হাজার ৪২১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া রোগী পাওয়া গেছে ১৪৩ জন। চলতি বছরের ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত হামে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ২১৬ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন চার হাজার ৬০৩ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ হাজার ২৮ জন।
এ পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১ হাজার ৪৩৪ জন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ১৭ হাজার ৯৫৫ জন।
এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ১৪ হাজার ৩৬৯ জন হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে তিন হাজার ১১৬ জন।
সিলেটে দুইদিনে মৃত্যু ৫
সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল ৯টার দিকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিআইসিইউ) তাদের মৃত্যু হয়। এর আগে গত শুক্রবার এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। এ নিয়ে দু’দিনের ব্যবধানে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হলো। চলতি মাসে সিলেট বিভাগে হাম উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।
ওসমানী হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ৯টার দিকে হাসপাতালের পিআইসিইউতে সিলেটের গোলাপগঞ্জের এক শিশুর মৃত্যু হয়। তার নিউমোনিয়ার পাশাপাশি হামের উপসর্গ ছিল। এর আগে ২৪ এপ্রিল শিশুটিকে ভর্তি করা হয়েছিল। প্রায় একই সময়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের এক শিশুর মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া শিশুটির নিউমোনিয়া, হার্ট ফেইলিউর ও হামের উপসর্গ ছিল।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ১৯০ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নতুন করে কোনো রোগী শনাক্ত না হলেও এই সময়ে ৬৪ জন সন্দেহভাজন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত বিভাগে মোট ৮০ জন ল্যাব-নিশ্চিত (কনফার্মড) হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে।
বগুড়ায় এক শিশুর মৃত্যু
বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে রাইয়ান নামে ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রাইয়ান বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বেতগাড়ী এলাকার আতিকুল ইসলামের ছেলে।
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা: মো: মনজুর-এ-মুর্শেদ জানান, রাইয়ান গত ১৭ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। সে আগে থেকেই সেরিব্রাল পালসি, ব্রঙ্কো নিউমোনিয়া ও হার্ট ফেলিউরসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিল। পরবর্তীতে শরীরে জ্বর ও র্যাশ দেখা দিলে তাকে হামের বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে রাইয়ানের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল এখনো না আসায় একে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হিসেবে এখনই গণ্য করা যাচ্ছে না।
ময়মনসিংহে এক শিশুর মৃত্যু
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ময়মনসিংহে হামের প্রাদুর্ভাব থামছেই না। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। এছাড়া শনিবার সকাল থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ২৮ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৮৪ শিশু।
রোববার দুপুরে মমেক হাসপাতালের হাম মেডিক্যাল টিমের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা: মোহা: গোলাম মাওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত ২১ এপ্রিল জেলার ত্রিশাল থেকে হামের উপসর্গ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকন্যাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ দিকে, গত ১৭ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৫৬ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে আরো ৩৩ শিশু। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৭৫৫ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছে।