হাইকোর্টের নির্দেশেও নামজারি বাতিল হয়নি, আদমদীঘিতে এসি ল্যান্ডের গড়িমসি

Printed Edition

আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা পাল্লা-কুসম্বী শ্মশানের ৩৭ শতক পুকুর ব্যক্তি নামে নামজারি বাতিলের বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও তা বাস্তবায়নে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নালিশি ‘ক’ তফসিলভুক্ত ১৪২ দাগের ৩৭ শতক সম্পত্তি সিএস খতিয়ানে সর্বসাধারণের ব্যবহার্য হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। জমিদারি আমল থেকে পাল্লা, কুসম্বী ও সুদিন গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ওই পুকুরটি শ্মশানসংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করে আসছেন। তবে ২০১৬ সালে কুসম্বী গ্রামের মৃত আয়েজ উদ্দীনের ছেলে জিল্লুর রহমান জমিটির মালিকানা দাবি করে পুকুরের মাঝখানে পাড় বেঁধে দখল নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে বগুড়া জেলা যুগ্ম জজ আদালতে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও শ্মশান কমিটির প্রতিনিধিসহ ছয়জনকে বিবাদি করে মামলা দায়ের করেন। আদালত সিএস ও এমআরআর খতিয়ান পর্যালোচনা করে দেখতে পান, জমিটি সর্বসাধারণের ব্যবহার্য হিসেবে নথিভুক্ত এবং কোনো ব্যক্তির নামে মালিকানা নেই। এসব বিবেচনায় ১৬ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।

পরবর্তীতে দখল না ছাড়ায় ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে কুসম্বী গ্রামের বকুল উদ্দীন হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন (নং ১৩৭৪৮/২০২৫) দায়ের করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট জিল্লুর রহমানের নামে করা সব নামজারি বাতিলের নির্দেশ দেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে আদেশ প্রদান করেন।

এ দিকে বগুড়া জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্তে সংশ্লিষ্ট জমি ১/১ খতিয়ানভুক্ত এবং সরকারি স্বার্থ জড়িত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবুও আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা দ্রুত নামজারি বাতিল ও জমি শ্মশান কমিটির ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা সুলতানা বলেন, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আদালতের নির্দেশনা দ্রুত কার্যকর করে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটানো হবে।