রাজশাহীর ৬টি আসনে ফ্যাক্টর আ’লীগ ও তরুণ-নারী ভোটার

অধিকাংশ আসনেই বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা

Printed Edition

মুহা. আবদুল আউয়াল রাজশাহী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে রাজশাহীর ছয়টি আসনে জমে উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। দীর্ঘ সময় পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ করা গেছে। মাঠপর্যায়ের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ আসনেই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে মূল লড়াই গড়ে উঠেছে। তবে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক, নারী ও তরুণ ভোটারদের অবস্থান জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

পর্যবেক্ষকদের মতে, আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশের ভোট বিএনপির দিকে যেতে পারে। অন্য দিকে পরিবর্তনের বার্তা ও নতুন নেতৃত্বের আহ্বানে নারী ও তরুণ ভোটারদের একটি অংশ জামায়াতের দিকে ঝুঁকছেন, এমন ধারণাও রয়েছে। যদিও বিএনপির অভিজ্ঞ নেতৃত্ব, সাংগঠনিক শক্তি ও অতীতের নির্বাচনী ঐতিহ্য দলটিকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে। তবে দলীয় কোন্দল কয়েকটি আসনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) : এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব:) শরীফ উদ্দিন এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। মোট ভোটার চার লাখ ৬৮ হাজার ৩৬২ জন। স্থানীয়দের মতে লড়াই হবে সমানে সমান।

রাজশাহী-২ (সদর) : সিটি করপোরেশনভুক্ত এই আসনে বিএনপির সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু ও জামায়াতের ডা: মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর মুখোমুখি। মোট ভোটার তিন লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৪ জন। এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) : বিএনপির শফিকুল হক মিলন ও জামায়াতের অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। মোট ভোটার চার লাখ ২৩ হাজার ১৯৯ জন। ভোটারদের একাংশ জামায়াত প্রার্থীকে এগিয়ে রাখছেন।

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) : মোট ভোটার তিন লাখ ১৯ হাজার ৯৫০ জন। বিএনপির ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া ও জামায়াতের ডা. আব্দুল বারী সরদারের মধ্যে প্রতিযোগিতা। নারী ভোটারের ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) : মোট ভোটার তিন লাখ ৫৩ হাজার ১৭৩ জন। বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে যেতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) : মোট ভোটার তিন লাখ ৫৬ হাজার ৯৫৩ জন। বিএনপির আবু সাঈদ চাঁদ ও জামায়াতের অধ্যাপক নাজমুল হকের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা।

সবমিলিয়ে রাজশাহীর ছয়টি আসনেই জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ভোটারদের অবস্থান, নারী ও তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং দলীয় ঐক্য-সংহতিই নির্ধারণ করতে পারে কে হাসবে শেষ হাসি।