৩৪ বছরেও জাতীয়করণ হয়নি ভায়েলা মিয়াবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়

Printed Edition

শফিকুল আলম ভূঁইয়া রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের ভায়েলা-মিয়াবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ৩৪ বছর পার হলেও এখনো জাতীয়করণ হয়নি। ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে দীর্ঘ দিন ধরে পাঁচজন শিক বিনা বেতনে পাঠদান করে আসছেন, জাতীয়করণের আশায়।

বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় শিক সুফিয়া বেগম ও তার স্বামী হাজী আইয়ুব আলী ভূঁইয়া প্রায় চার কোটি টাকা মূল্যের ৩৩ শতাংশ জমি দান করেন এবং একটি টিনশেড ভবন নির্মাণ করেন। সেই জরাজীর্ণ ভবনেই এখনো চলছে পাঠদান। দুই বর্গকিলোমিটার এলাকায় অন্য কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় ভায়েলা-মিয়াবাড়ি, মুইরাবো, গোপালিয়াবাড়ি, আজিজনগরসহ আশপাশের গ্রামের শিার্থীদের একমাত্র ভরসা এই প্রতিষ্ঠান।

২০১৩ সালে দেশে ২৬ হাজারের বেশি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হলেও এ বিদ্যালয়টি বাদ পড়ে যায়। এরপর থেকে শিক-শিার্থী ও এলাকাবাসী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও কোনো ফল হয়নি।

সরেজমিন দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো অত্যন্ত নাজুক। টিনশেড ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ, নেই বিদ্যুৎ সংযোগ, পর্যাপ্ত আসবাব বা টয়লেট সুবিধা। সীমানা প্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তাও নেই। তীব্র গরমে শিশুরা কষ্টে কাস করছে, আর বৃষ্টির সময় ছাউনির ফাঁক দিয়ে পানি পড়ে পাঠদান ব্যাহত হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক আবু সুফিয়ান জানান, বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ২০২ জন শিার্থী পড়াশোনা করছে। আর্থিক সঙ্কটের মধ্যেও এলাকার দরিদ্র শিশুদের কথা ভেবে শিকরা বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আবু বকর বলেন, ‘পরিবেশ প্রতিকূল হলেও ফলাফল ভালো। কিন্তু অবকাঠামোগত সমস্যা দ্রুত সমাধান জরুরি।’ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য শামীমা সুলতানা ওমা দ্রুত জাতীয়করণের দাবি জানান।

উপজেলা শিা কর্মকর্তা মাহরুক জাবীন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামও শিার্থীদের স্বার্থে উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ না হওয়াকে দুঃখজনক উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় পদেেপর কথা জানান।