১/১১ সরকার জেআইসিতে তারেক রহমানকে নির্যাতন করেছিল : চিফ প্রসিকিউটর

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

এক-এগারোর সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) গোপন বন্দিশালা ‘জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল’ বা জেআইসিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম।

গতকাল ঢাকা সেনানিবাসে ডিজিএফআই সদর দফতরে অবস্থিত বিতর্কিত এই নির্যাতন কেন্দ্রটিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও তদন্ত দলের সরেজমিনে পরিদর্শনের পর সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য জানান। ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বিচারক ও প্রসিকিউশন দল এই পরিদর্শনে অংশ নেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘বিচারের অংশ হিসেবে সাক্ষীদের বর্ণনা ও আমাদের তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ২০০৭ সালে গ্রেফতারের পর আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জেআইসিরই একটি কামরায় এনে নির্যাতন চালানো হয়েছিল। এসব তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যায়ক্রমে আদালতে বিচারে প্রতিফলিত হবে।’

পরিদর্শন শেষে আলামত ধ্বংসের চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করে আমিনুল ইসলাম জানান, ৫ আগস্টের পর জেআইসিতে নতুন করে রঙ ও প্লাস্টার করে প্রমাণের চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে বন্দী থাকা ভুক্তভোগী হুম্মাম কাদের চৌধুরীর নিজ হাতে লেখা ‘এইচকিউথ্রি’ প্রতীকী চিহ্নটি সাদা রঙ ও প্লাস্টার করা সত্ত্বেও এখনো বিদ্যমান। জেআইসি ও টিএফআই (টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন) সেলে পাওয়া এমন সব আলামত সিলগালা করে প্রসিকিউশনের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাউন্ডপ্রুফ ও জানালাহীন এই অন্ধকার প্রকোষ্ঠগুলোকে ভয়ঙ্কর ‘টর্চার সেল’ হিসেবে ব্যবহারের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বন্দীদের কান্নার শব্দ যেন বাইরে না যায় সেজন্য সেখানে ভারী এক্সজস্ট ফ্যান লাগানো থাকত। অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমীসহ বহু মানুষকে বছরের পর বছর পরিবার ও আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত করে আটকে রাখা স্পষ্টতই ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’। এর ব্যাখ্যা তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্টদেরই দিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

২০০৭ সালের ৭ মার্চ সেনা-নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তারেক রহমানকে গ্রেফতার করে যৌথ বাহিনীর হেফাজতে নির্মম নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ২০০৮ সালে উচ্চ আদালতের জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান এবং দেড় যুগ নির্বাসিত জীবন কাটান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে তৎকালীন সরকারের পতনের পর তিনি দেশে ফেরেন এবং গত ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বিগত সরকারের শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের গুম করে ডিজিএফআই, র‌্যাব ও ডিবির গোপন বন্দিশালায় রাখার অভিযোগে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে। সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয়ে বিচারক ও তদন্তকারীদের সরাসরি এই পরিদর্শন এবং নির্যাতন কেন্দ্র সিলগালা করার ঘটনা বিচার প্রক্রিয়ায় একটি নজিরবিহীন অগ্রগতি।