অপারেশন ডেভিল হান্টে গ্রেফতার ২৯
নিষিদ্ধ অ্যাপে পরিচয় টাকার লোভে হত্যা
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
নাজমুলের সাথে একটি নিষিদ্ধ ‘গে অ্যাপে’র মাধ্যমে প্রথমে ‘আলিফ’ নামে এক ব্যক্তির পরিচয় হয়। সেই সূত্র ধরে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় নাজমুলের বাসায় গাঁজা সেবন ও তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আলিফ সিফাত ও সাকিবকে নাজমুলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। সিফাত ও সাকিবের গার্লফ্রেন্ডদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার জন্য টাকার প্রয়োজন হলে পরিকল্পনা করে নাজমুলের কাছ থেকে টাকা আদায় করবে। এ উদ্দেশ্যে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর একটি ধারালো ছুরি নিয়ে নাজমুলের বাসায় গিয়ে তারা গাঁজা সেবন করে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। নাজমুল কিছুটা অচেতন হয়ে পড়লে সিফাত পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ছুরি দিয়ে তার মুখে ও গলায় গুরুতর জখম করে হত্যা করে। হত্যার পর তারা নাজমুলের দুটি স্যামসাং মোবাইল, একটি টেলিভিশন ও মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভিকটিমের মামা মো: ফারুকুল ইসলাম বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে বাড্ডা থানা পুলিশ গোয়েন্দা তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করে। গত বুধবার রাতে গাজীপুর বোর্ড বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো: সিফাত হোসেনকে (২১) গ্রেফতার করে। একই দিন রাতে মগবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাকিব আল হাসান (১৯), রাইয়ান (২০) ও নয়ন প্রমানিককে (২১) গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে একটি টেলিভিশন, একটি মোবাইল ফোন ও আসামির ব্যবহৃত পোশাক জব্দ করা হয়। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
অপারেশন ডেভিল হান্টে গ্রেফতার ২৯ : রাজধানীতে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ এর আওতায় ২৪ ঘণ্টায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২৯ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যাত্রাবাড়ী, রূপনগর, শেরেবাংলা নগর, কলাবাগান ও মতিঝিল থানা পুলিশ। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানা ৯ জন, রূপনগর থানা ছয়জন, শেরেবাংলা নগর থানা ছয়জন, কলাবাগান থানা একজন ও মতিঝিল থানা সাতজনকে গ্রেফতার করেছে।
ইয়াবা ও টাকাসহ মাদককারবারি গ্রেফতার : রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নগদ টাকা ও ইয়াবাসহ মো: মোশারফ হোসেন ওরফে মুছা (৫০) নামে এক মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ৭৮৪ পিস ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির নগদ ১৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। মোশারফ দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থান হতে অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট ক্রয় করে কামরাঙ্গীরচর থানাসহ আশপাশের এলাকায় বিক্রি করতেন। তার বিরুদ্ধে কামরাঙ্গীরচর থানায় ছয়টি মাদক মামলা রয়েছে।