যে রেকর্ডগুলো ভাঙার অপেক্ষায়

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপ ২০২৬ এখনো গ্রুপ পর্বের শুরুতেই আছে; কিন্তু এরই মধ্যে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসরটি রেকর্ড ভাঙা-গড়ার মঞ্চে পরিণত হয়েছে। প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত এই বিশ্বকাপে ম্যাচ সংখ্যা বেড়েছে, বেড়েছে সুযোগও। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ার পথে হাঁটছেন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত তারকারা।

লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন ও আর্লিং হলান্ড, প্রত্যেকেই নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলো ছড়িয়েছেন। ফলে বিশ্বকাপের বহু বছরের পুরনো রেকর্ডগুলো এখন নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।

মেসির সামনে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড

বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড দীর্ঘ দিন ধরে ছিল জার্মান কিংবদন্তি মিরোসøাভ ক্লোসার দখলে। ২০১৪ সালে তিনি ১৬ গোল নিয়ে এককভাবে শীর্ষে ওঠেন। কিন্তু এবার সেই রেকর্ডে পৌঁছে গেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে নিজের দলের ৩-০ জয়ে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপে মোট ১৬ গোল পূর্ণ করেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন তিনি ক্লোসার পাশে যৌথভাবে অবস্থান করছেন। অবশ্য মাইলফলকে পৌঁছানোর পথে দু’জনের যাত্রা আলাদা। ক্লোসা ২৪ ম্যাচে এই রেকর্ড গড়েছিলেন, আর মেসির লেগেছে ২৭ ম্যাচ। কিন্তু পরিসংখ্যানের চেয়ে বড় বিষয় হলো মেসির সামনে এখন আরো ম্যাচ আছে। ফলে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পরের ম্যাচেই তিনি এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর অনেকেই ভেবেছিলেন মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে তিনি যেন নতুন অধ্যায় লিখছেন।

এমবাপ্পে কি মেসির রেকর্ডের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ?

মেসির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। মাত্র কয়েকটি বিশ্বকাপ খেলেই তার গোলসংখ্যা পৌঁছে গেছে ১৪তে। অর্থাৎ মেসির থেকে মাত্র দুই গোল পিছিয়ে আছেন তিনি। শুধু তাই নয়, চলতি আসরে নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন। ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জেতা এবং ২০২২ সালে গোল্ডেন বুট পাওয়া এমবাপ্পে এবার আরো বড় লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছেন। যদি ফ্রান্স দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়, তাহলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার লড়াইয়ে তিনিও সবচেয়ে বড় দাবিদার হয়ে উঠবেন।

হ্যারি কেইনের সামনে ইংল্যান্ডের নতুন ইতিহাস

ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও নিজের নাম তুলেছেন রেকর্ডের তালিকায়। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ে দু’টি গোল করেন তিনি। এতে বিশ্বকাপে তার মোট গোল দাঁড়িয়েছে ১০, যা ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকারের রেকর্ড স্পর্শ করেছে। ঘানার বিপক্ষে পরের ম্যাচেই কেইন এককভাবে ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতা হয়ে যেতে পারেন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জনও যুক্ত হয়েছে তার নামের পাশে। ডেভিড বেকহ্যামের পর দ্বিতীয় ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে তিনটি আলাদা বিশ্বকাপে গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন কেইন। জাতীয় দলের হয়ে ১১৫ ম্যাচ খেলে তিনি ইংল্যান্ডের সর্বাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ফুটবলারদের তালিকাতেও উপরের সারিতে উঠে এসেছেন।

গোল্ডেন বুটের লড়াই হতে পারে স্মরণীয়

বিশ্বকাপের ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ একটি হলো সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার। ২০২২ সালে এই পুরস্কার জিতেছিলেন এমবাপ্পে। তার আগে ২০১৮ সালে জিতেছিলেন কেইন। কিন্তু এবার লড়াই আরও কঠিন। মেসি, এমবাপ্পে, কেইন, হালান্ড, ডেনিস উনদাভ ও জোনাথন ডেভিড সবাই কাছাকাছি অবস্থানে আছেন। ফলে শেষ পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতা বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম জমজমাট লড়াই হয়ে উঠতে পারে।

রোনালদোর বয়সকে হার মানানো অধ্যায়

বিশ্বকাপে রেকর্ডের আলোচনা হবে আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নাম আসবে না এটা প্রায় অসম্ভব। পর্তুগালের এই তারকা এবার নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আসরে অংশ নেয়া ফুটবলারদের একজন হয়েছেন তিনি। তবে আরো বড় অর্জন এসেছে বয়সের হিসেবে। ৪১ বছর ১৩২ দিন বয়সে বিশ্বকাপ ম্যাচে শুরুর একাদশে নেমে সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়েছেন রোনালদো। আর যদি চলতি আসরে একটি গোলও করতে পারেন, তাহলে ছয়টি আলাদা বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়ে ফেলবেন।

হ্যালান্ডের বিশ্বকাপ শুরুই রেকর্ড দিয়ে

নরওয়ের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নেমেই আর্লিং হ্যালান্ড দেখিয়ে দিয়েছেন কেন তাকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর স্ট্রাইকার বলা হয়। ইরাকের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয়ে দুই গোল করেন তিনি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে নরওয়ের হয়ে প্রথমবার কোনো খেলোয়াড় এক ম্যাচে একাধিক গোল করলেন। আরো একটি গোল পেলেই দেশের সর্বকালের সেরা বিশ্বকাপ গোলদাতাও হয়ে যাবেন হ্যালান্ড। মাঠে শুধু গোল নয়, বাড়ছে অন্য রেকর্ডও।

শুরুতেই লাল কার্ডের সংখ্যা

এখন পর্যন্ত ছয়টি লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। যদিও ২০০৬ সালের ২৮ লাল কার্ডের রেকর্ড থেকে এখনো অনেক দূরে এই সংখ্যা।

কেপ ভার্দের ভোজিনিয়া অন্য দিকে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ অভিষেকে ক্লিন শিট রেখে নতুন ইতিহাস লিখেছেন।

দিদিয়ের দেশাম

এ দিকে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশাম বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জয় পাওয়া কোচ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন। তার প্রয়োজন আর একটি মাত্র জয়। বিশ্বকাপ ২০২৬ এখনো অনেক বাকি। কিন্তু শুরুতেই যেভাবে রেকর্ডের পর রেকর্ড আলোচনায় উঠে আসছে, তাতে শেষ পর্যন্ত এই আসরকে হয়তো ইতিহাসময় ম্যাচে চমক সব সময়ই সম্ভব।