বিদায়ী বছরে ফ্যাশনে দেশীয় পোশাকের আধিপত্য

সালতামামি

Printed Edition

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

বিদায়ী বছরে ফ্যাশনে দেশীয় পোশাকের আধিপত্য ছিল। একদিকে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক অবনতি, অন্য দিকে ফ্যাশন সচেতন মানুষের কাছে সময়ের সাথে দেশীয় পোশাকের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে এমন বাড়তি গ্রহণযোগ্য ছিল। দেশীয় তাঁত, হাতেবোনা কাপড়, প্রাকৃতিক রং এবং কারুশিল্পের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরজুড়ে ব্যবহার উপযোগিতা এবং ডিজাইনার ও ব্র্যান্ডের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দেখা গেছে যার যার নিজস্ব ধারায়। টেকসই ফ্যাশন বিষয়ে সচেতনতা ও চর্চা বেড়েছে। বছরজুড়ে নীলের বিভিন্ন শেড, কালো, মেরুন রঙের পোশাকের কদর ছিল। সময়ভেদে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অফ হোয়াইট, প্যাস্টেল শেডের চাহিদা বেশি ছিল। কাছাকাছি রঙের সংমিশ্রণের পণ্য, হাতের কাজের ইয়োক- পোশাক, এমব্রয়ডারি চলেছে। প্রিন্টের পোশাকের দাপট দেখা গেছে। ডিজিটাল ও স্ক্রিন প্রিন্টের পোশাকেও কারুকাজ লক্ষ্য করা গেছে। পাঞ্জাবির ক্ষেত্রে কালো, নীল, মেরুন রঙে অল্প কারুকাজ লক্ষণীয়। বছরের শেষ দিকে সাদা পাঞ্জাবির চাহিদা বেড়েছে। শিশুদের ক্ষেত্রে আরামদায়ক কাট ও সুতি কাপড়ের পোশাকের চাহিদা শীর্ষে ছিল।

এ বছর ওভারসাইজ ট্রেন্ড বেশ জনপ্রিয় ছিল। কামিজ, কুর্তি, টপসের প্যাটার্নে পরিবর্তন এসেছে। এ বছর ফ্যাশনে ট্রেন্ড ছিল কোঅর্ড সেট, কাফতান, লুজ কুর্তা, কটি সেট, ওয়াইড লেগ প্যান্ট, সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি ইত্যাদি। পোশাকে হাতের কাজের প্রাধান্য পেয়েছে। প্রকৃতি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে রং নির্বাচন করা হয়েছে। এ বছরের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো বাংলাদেশের টাঙ্গাইল শাড়ি বুনন শিল্পকে ‘অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। এটি তাঁতশিল্প এবং কারিগরদের জন্য পরম প্রাপ্তির।

বিগত বছর সবচেয়ে স্পষ্ট যে ট্রেন্ডটি দেখা গেছে, তা হলো সাসটেইনেবল ও দেশীয় ভাবনাভিত্তিক ফ্যাশন। দেশীয় তাঁত, হাতেবোনা কাপড়, প্রাকৃতিক রঙ এবং কারুশিল্পের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ডিজাইনের দিক থেকে মিনিমাম অথচ ব্যবহারযোগ্য ফ্যাশন ছিল বছরজুড়ে ট্রেন্ডে। ঢিলেঢালা সিলুয়েট, লেয়ার্ড পোশাক, মাল্টি-ওয়ে ব্যবহারযোগ্য আউটফিট-

এসবই শহুরে জীবনের বাস্তবতায় জায়গা করে নিয়েছে। রঙের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ফ্যাশন বাজারে এ বছর আধিপত্য করেছে মাটির রঙ, ইন্ডিগো, অফ হোয়াইট, সবুজ ও লালের নানা শেড। লোকজ মোটিফ, নকশিকাঁথা অনুপ্রেরণা ও গ্র্যাফিক প্যাটার্নের আধুনিক ব্যবহার ট্রেন্ডকে করেছে আরো সমৃদ্ধ।

গেল বছর ফ্যাশনে সবচেয়ে শক্তভাবে উঠে এসেছে লোকাল টেক্সটাইল ও ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের গুরুত্ব। ফ্যাশনে গ্লোবাল ট্রেন্ডের চেয়ে নিজেদের শিকড়, তাঁত ও কারিগরদের কাজকে সামনে আনার প্রবণতাই বেশি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে জামদানি ও টাঙ্গাইল শাড়ি নতুন স্টাইলিং ও আধুনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে আবারো মূলধারার ফ্যাশনে জায়গা করে নিয়েছে।

হাতের কাজ করা লোকাল হ্যান্ডলুম ফ্যাব্রিক, খাদি, হ্যান্ডলুম কটন এবং দেশীয় তাঁতের কাপড় উৎসবের পোশাকের পাশাপাশি দৈনন্দিন ব্যবহারের পোশাকেও জনপ্রিয় হয়েছে। একই সাথে এ বছর ফ্যাশনে সাসটেইনেবিলিটি ও সচেতনতার বিষয়টি আরো স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। অনেক ব্র্যান্ড প্রাকৃতিক রঙের দিকে ঝুঁকেছে; যা পরিবেশবান্ধব হওয়ার পাশাপাশি আমাদের ঐতিহ্যের সাথেও গভীরভাবে যুক্ত। সবমিলিয়ে ২৫ সালের ফ্যাশনে উষ্ণতা, স্টাইল আর বাস্তবজীবনে বহুমাত্রিক ব্যবহারই বারবার উঠে এসেছে।