সঙ্গীর খোঁজে মন্দিরে তরুণ-তরুণীরা
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
দক্ষিণ কোরিয়ায় বিয়ে ও সন্তান জন্মহার কমে যাওয়ায় একটি বৌদ্ধ মন্দিরে অবিবাহিত নারী-পুরুষের জন্য দুই দিনের বিশেষ ‘সঙ্গী খোঁজার’ আয়োজন ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মাত্র ২০টি আসনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে চার হাজারেরও বেশি।
দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইয়াংইয়াং এলাকার নাকসানসা বৌদ্ধ মন্দিরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয় ব্যতিক্রমী এই আয়োজন। কোরিয়ান বৌদ্ধ ফাউন্ডেশন ফর সোস্যাল ওয়েলফেয়ার ২০২৩ সালে কর্মসূচিটি চালু করে। এর লক্ষ্য শুধু অবিবাহিতদের পরিচয় করিয়ে দেয়া নয়, বরং সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে দেশটির দীর্ঘদিনের নিম্ন জন্মহার সঙ্কট মোকাবেলা করা।
২০টি আসনের বিপরীতে চার হাজার ২২৫টি আবেদন জমা পড়ায় আসনপ্রতি প্রতিযোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২১১ জনে। আয়োজকদের মতে, এটি এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। দুই দিনের এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা মন্দিরের পোশাক পরে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল চোখ বেঁধে একজন আরেকজনকে পথ দেখানো, একসাথে চা পান, সমুদ্রসৈকতে যোগব্যায়াম, বনভূমিতে হাঁটা এবং একান্তে কথোপকথনের ব্যবস্থা। এসব কার্যক্রমে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা তত্ত্বাবধান করেন।
আয়োজকদের ভাষ্য, আধুনিক ডেটিং অ্যাপ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাইরে শান্ত ও মননশীল পরিবেশে মানুষ যেন একে অপরকে জানার সুযোগ পায়, সেটিই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। তারা মনে করেন, আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে এমন পরিবেশ বেশি কার্যকর।
দক্ষিণ কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের সর্বনিম্নœ জন্মহারের দেশগুলোর একটি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির মোট জন্মহার কিছুটা বেড়ে ০.৮০ হলেও তা জনসংখ্যা ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় হারের অনেক নিচে। এ কারণে সরকার ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান তরুণদের মধ্যে সম্পর্ক ও পরিবার গঠনে উৎসাহ দিতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। আয়োজকদের আশা, এই ধরনের আয়োজন শুধু নতুন সম্পর্ক তৈরির সুযোগই সৃষ্টি করবে না, একই সাথে দেশের জনসংখ্যাগত সঙ্কট মোকাবেলায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।