ঠাকুরগাঁও আমিরের ঘটনা সাজানো নাটক

একটি দল জনগণের সমর্থন হারিয়ে ষড়যন্ত্র ও হামলা করছে : জামায়াত

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

একটি দল সাহস হারিয়ে এবং জনগণের সমর্থন পাবেন না বুঝতে পেরে হামলা ও ষড়যন্ত্রমূলক আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও আমিরের ঘটনা সাজানো নাটক।

গতকাল মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মাওলানা আবদুল হালিম, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য জাহিদুর রহমান, ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দিন খালেদ, ড. মোশাররফ হোসেন এবং সিনিয়র সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান।

অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, আর কয়েক ঘণ্টা পর জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরেরও বেশি সময় স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশে ছিল। বাংলাদেশের রাজনীতি, নির্বাচনব্যবস্থা ও মানুষের আশা-আকাক্সক্ষাকে ধ্বংস করেছে। চব্বিশের আগস্টের পর নতুন বাংলাদেশে মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবেন। সব জায়গায় ভোটদানের সুন্দর পরিবেশ আমরা আশা করি।

তিনি বলেন, এ সময় উদ্বেগজনক কিছু ঘটনা ঘটছে। আমাদের প্রার্থী, নেতৃবৃন্দ, এজেন্ট এবং কর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে। তাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে, অফিসগুলোতে হামলা করা হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভোটের এই পরিবেশকে নষ্ট করতে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করতে এবং জনগণ যাতে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটকেন্দ্রে আসতে না পারে, সে জন্য একদল সন্ত্রাসী চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, আমাদের আমিরে জামায়াত ডা: শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচন করছেন। এ আসনে গত রাতে এ ধরনের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। আমাদের অফিসে হামলা হয়েছে। এ আসনে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। প্রতিদিনই কিছু না কিছু ঘটছে। আমরা বিকাশ নম্বর ও আইডি কার্ড চাচ্ছি এমন তথ্য দিয়ে সেখানে একটি লিফলেট ছড়ানো হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। আমাদের সম্মানিত আমিরে জামায়াতসহ নেতৃবৃন্দের ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ করতে একদল লোক এসব অসৎ চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রমূলক কাজ করছে।

গতকাল পাবনা সদরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে মাইকিং করা হয়েছে। কিছু লোকের নাম উল্লেখ করে তাদের ধরিয়ে দিতে বলা হয়েছে, যারা মূলত জামায়াতের এজেন্ট হবেন এবং নির্বাচনী কর্মী। পরবর্তীতে যখন আমরা পুলিশ এবং রিটার্নিং অফিসারের সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করি, তখন তারা বলেন আমরা কিছুই জানি না, আপনাদের জানানো হবে। রাতেও কিছুই জানাননি তারা। স্থানীয় সংগঠন সেখানে ব্রিফিং করেছে। এ ধরনের ন্যক্কারজনক কাজ করে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার একটি ঘৃণ্য প্রয়াস চালানো হচ্ছে।

বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, মৌলভীবাজারের জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-১ আসনের প্রার্থীর ওপর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থীর নেতৃত্বে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। দু’জনকে মারাত্মকভাবে আঘাত ও জখম করা হয়েছে। রাতে রিটার্নিং অফিসারকে জানানো হয়েছে এবং থানায় মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনার আগের দিন রাজনগরে একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে।

অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, এই ধরনের হামলা বারবার ঘটছে। একটি দলের পক্ষ থেকে এসব আক্রমণাত্মক হামলা করা হচ্ছে। মনে হচ্ছে তারা সাহস হারিয়েছে। জনগণের সমর্থন তারা পাবেন না। এজন্য এ ধরনের আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

তিনি বলেন, বরগুনায় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। এজেন্ট ও নির্বাচনী কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষ থেকে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া ও হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি ক্রিমিনাল অফেন্স। ভোটের সময় তিনি এটি বলতে পারেন না। সেখানে রিটার্নিং কর্মকর্তা আছেন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছেন। আমাদের জানা মতে তারা এখনো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। মনে হচ্ছে প্রশাসনের একটি অংশ যেকোনো কারণে একটি দলের দিকে হেলে পড়েছে। একটি দলকে অন্যায়ভাবে ও অন্যায্যভাবে সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, আমরা স্পষ্টভাষায় বলতে চাই অতীতে সাড়ে ১৫ বছর যারা এগুলো করেছেন তারা অন্যায় করেছেন, যা গ্রহণযোগ্য হয়নি। গত সাড়ে ১৫-১৬ বছর যারা নির্বাচনে জড়িত ছিলেন, তাদেরকে জনগণ লাল কার্ড দেখিয়েছে। এই নির্বাচনী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ যারা আছেন, তাদের আমরা অনুরোধ করব জনরোষে আপনাদের সরে পড়তে হতে পারে। কোনো অবস্থাতেই আপনারা নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে যাবেন না। সঠিক ও যথার্থ দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো অবস্থায় যদি একপেশে ভূমিকা পালন করেন, তাহলে জনগণ আপনাদের ছেড়ে দেবে না।

সৈয়দপুর বিমানবন্দরে জামায়াতের দায়িত্বশীল আটক হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি ঢাকা থেকে আজ গিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে নিয়ে একটি সাজানো নাটক করেছেন। তিনি (দায়িত্বশীল) তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, ‘আমার ব্যবসার জন্য আমি যাতায়াত করি। ব্যাংক বন্ধ, আমাকে কিছু লেনদেন করতে হবে।’ এজন্য তার সাথে কিছু নগদ টাকা ছিল।

অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি সাপেক্ষে তিনি এই টাকা বহন করেছেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীম সামাদ বলেছেন, অভ্যন্তরীণ রুটে অর্থ পরিবহনের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।

বিমানবন্দরের মতো একটি রেস্ট্রিকটেড এরিয়ায়, যেখানে খুবই সীমিত মানুষের চলাফেরা, সেখানে একটি নাটক সাজানো হয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে টাকা পরিবহন করার পরও বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য হীন চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে একদল লোক বিভিন্ন ধরনের সাজানো ঘটনাগুলো দিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সামগ্রিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। আমরা মনে করি এটি সুস্থ ধারার রাজনীতি নয়। আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। ১২ ফেব্রুয়ারি দেশবাসীকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান অ্যাডভোকেট জুবায়ের। একইসাথে তিনি সব ধরনের ষড়যন্ত্রের জবাব দেয়ার জন্য জামায়াত ও ১১ দল প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতেই মাঠে অবস্থান করব এবং বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরব ইনশাআল্লাহ।