ব্যাংকিং খাতের মূল্যবৃদ্ধিতে পুঁজিবাজার ইতিবাচক ধারায়
ঢাকা শেয়ারবাজার পর্যবেক্ষণে লেনদেন ও সূচকের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটতে দেখা যায়
Printed Edition
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
দীর্ঘদিন ধরে পছন্দের তালিকার বাইরে চলে যাওয়া ব্যাংকিং খাতে নতুন করে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ফিরে এসেছে। গত সপ্তাহের শুরু থেকেই দেশের পুঁজিবাজার দুটিতে এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে পুঁজিবাজার সূচক ও লেনদেন দু’দিক থেকেই ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহের ঢাকা শেয়ারবাজার পর্যবেক্ষণে লেনদেন ও সূচকের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটতে দেখা যায়।
সপ্তাহের প্রথম দু’দিন ব্যাংকিং খাতের মূল্যবৃদ্ধি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচককে যেমন এগিয়ে রাখে তেমনি বেড়েছে বাজারটির লেনদেনও। প্রথম কার্যদিবসেই বাজারটির লেনদেন ৫০০ কোটি টাকা ছাড়ায়। এর আগে টানা ৯ কার্যদিবস ৫০০ কোটির নিচে ছিল ডিএসইর লেনদেন। পরবর্তীতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমলেও সপ্তাহশেষে ডিএসইর গড় লেনদেন বেড়েছে ৩৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। গত সপ্তাগে ডিএসইর গড় লেনদেন দাঁড়ায় ৪৭৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৩৫৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গত সপ্তাহে ৮৭ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। চার হাজার ৯১০ দশমিক ৬১ পয়েন্ট থেকে সপ্তাহ শুরু করা সূচকটি বৃহস্পতিবার সপ্তাহান্তে পৌঁছে যায় চার হাজার ৯৯৮ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে। প্রথম দিন সূচকের বড় ধরনের উন্নতি ঘটে ব্যাংকিং খাতের প্রায় শতভাগ কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে। একই কারণে ডিএসইর লেনদেন পৌঁছে যায় ৫৩৭ কোটি টাকায়। সপ্তাহের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে বাজারে কিছুটা সংশোধনের ঘটনা ঘটলেও শেষ দু’দিন পার করে সূচকের উন্নতি ধরে রেখে। এ সময় ডিএসইর বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহর উন্নতি রেকর্ড করা হয় যথাক্রমে ৪৫ দশমিক ৫২ ও ৪ দশমিক ৮২ পয়েন্ট।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বছরের শুরুতে বাজারে যে ইতিবাচক ধারা শুরু হয়েছে এটি ধরে রাখতে বিনিয়োগকারীদের ভালো ভূমিকা রাখতে হবে। কোনো কারণ ছাড়াই শুধু বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে হুড়মুড় করে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে বিক্রয়চাপ সৃষ্টি করা হলে তা একদিকে পুঁজিবাজারকে যেমন অস্থির করে তেমনি এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিজেদের লোকসানের মুখেই ঠেলে দেয়। তাই বাধ্য না হলে কোনো অবস্থায়ই লোকসান বা পুঁজির ওপর ঝুঁকি বাড়ানো উচিত নয়।
গত সপ্তাহে সূচকের উন্নতির ফলে ডিএসইর বাজার মূলধনে যোগ হয়েছে দুই হাজার ৪০১ কোটি টাকা। সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ছয় লাখ ৮০ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা, যা সপ্তাহ শেষে পৌঁছে যায় ছয় লাখ ৮৩ হাজার ১৮০ কোটি টাকায়। এ বৃদ্ধি বাজারটির মোট মূলধনের দশমিক ৩৫ শতাংশ। বাজার মূলধন বৃদ্ধিতে ব্যাংকিং খাতের যেমন অবদান ছিল তেমনি ছিল টেলিকমিউনিকেশন খাতের দুই কোম্পানি গ্রামীণ ফোন ও রবি অজিয়াটার।
সূচকের উন্নতির ফলে বৃদ্ধি পায় ডিএসইর গড় মূল্য-আয় অনুপাত (পিই)ও। গত সপ্তাহান্তে বাজারটির গড় পিই দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৮২ যা আগের সপ্তাহে ছিল ৮ দশমিক ৬৭ ।
বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি ওরিয়ন ইনফিউশন। এ সময় গড়ে কোম্পানিটির ২২ কোটি ৮৯ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয় যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ। গড়ে ২০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা লেনদেন করে এ তালিকার দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। সাপ্তাহিক লেনদেনে কোম্পানিটির অংশগ্রহণ ছিল ৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে সিটি ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ফাইন ফুডস, সায়হাম কটন মিলস, মালেক স্পিনিং, লাভেলো আইসক্রিম, যমুনা ব্যাংক ও সামিট অ্যালাইয়েন্স পোর্ট।
ওই সময় মূল্যবৃদ্ধিতে ডিএসইর শীর্ষ কোম্পানি ছিল টেক্সটাইল খাতের তাল্লু স্পিনিং। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ২০ দশমিক ২৯ শতাংশ। ১৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে বিবিধ খাতের জি কিউ বলপেন উঠে আসে এ তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধিতে অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে পুবালি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, সায়হাম টেক্সটাইলস, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, ঢাকা ব্যাংক, রূপালি ব্যাংক ও ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স।
সপ্তাহটিতে ডিএসইর দরপতনের শীর্ষ কোম্পানি ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। পুরো সপ্তাহে ২৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি। ২৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ শিকার হওয়া একই খাতের ফার ইস্ট ফিন্যান্স ছিল এ তালিকার দ্বিতীয় কোম্পানি। ডিএসইতে দরপতনে শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে এফএএস ফিন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, বিআইএফসি, বিডি ওয়েল্ডিং ইলেক্ট্রোড, এস আলম কোল্ড রোল স্টিংলস, কাট্টলি টেক্সটাইলস ও ফার্স্ট ফিন্যান্স।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে ৩৮৯টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াাল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৭৬টি কোম্পানির, কমেছে ১৭৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৫টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।