পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি

Printed Edition
বাংলাদেশ
পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ ১০ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনটি ছিল শুক্রবার। তখন ঢাকায় কারফিউ চলছে। কোথাও বিদ্যুৎ নেই। পুরো ঢাকা অন্ধকারে ছেয়ে গেছে। শাহবাগে অবস্থিত তৎকালীন ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল ও হলিফ্যামিলি হাসপাতালকে নিরাপদ জোন ঘোষণা করা হয়। বিদেশী কূটনীতিক ও নাগরিকেরা এ প্রতিষ্ঠান দু’টিতে আশ্রয় নেন।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী বিভিন্ন অঞ্চলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। অনেকে আত্মসমর্পণ করছে। অনেক অঞ্চলে মিত্রবাহিনীর গতিরোধ করার জন্য পাকিস্তান সৈন্যবাহিনী যোগাযোগ অবকাঠামো ধ্বংস করে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, ভৈরব ব্রিজ ধ্বংস করা হয়।

ভারতীয় মিত্রবাহিনী ঢাকার রেডিও অফিস বোমা মেরে ধ্বংস করে। বন্ধ হয়ে যায় সম্প্রচার। বোমাবর্ষণ চলে চট্টগ্রামে ও চালনা বন্দরে। সকাল থেকে তিন ঘণ্টা যুদ্ধ চলে চালনায়। কমপক্ষে ১০টি জাহাজ ধ্বংস হয়। এ ছাড়া লাকসাম, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, রংপুর, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও খুলনায় প্রচণ্ড লড়াই হয়। রংপুর ও দিনাজপুরের পাকিস্তানী সেনারা বগুড়া ও রাজশাহী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। রাতে বাহাদুরাবাদ ফেরিঘাট মুক্তিবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে। লাকসাম মুক্ত হয়। সেখানে প্রায় ৫০০ পাকিস্তানি সেনাসহ কমান্ডিং অফিসার আত্মসমর্পণ করেন। বিভিন্ন অঞ্চলে পাকিস্তানি ক্যাম্প গুটিয়ে নেয়া হয়। কিন্তু ক্যাম্পের সৈন্যরা তখনো প্রত্যন্ত অঞ্চলে যুদ্ধরত ছিল।

১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত রুহুল আমিন শহীদ হন। বাংলাদেশের গানবোট পদ্মা ও পলাশ মংলাবন্দর হয়ে খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছে বিমান হামলার শিকার হয়। বহু নাবিক শহীদ হন এ হামলায়। এদের মধ্যে ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার অফিসার রুহুল আমিন অন্যতম। অপারেশন হট প্যান্টস সাঙ্কেতিক নামে একটি অভিযানের জন্য যাচ্ছিলেন তারা। এর লক্ষ্য ছিল, খুলনা ও মংলা এলাকায় শত্রুপক্ষের নৌযানের ওপর আঘাত হানা এবং পশুর নদীর মোহনায় মাইন স্থাপন করা।

১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে যুদ্ধ পরিস্থিতি যে অবস্থায় এসে দাঁড়ায় তাতে পাকিস্তান বাহিনীর কাছে পরাজয়ের স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে যায়। আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি নিতে থাকে পাকিস্তান শিবির। জাতিসঙ্ঘ থেকেও ঘোষণা করা হয়, সাধারণ পরিষদ গৃহীত যুদ্ধবিরতি ও সৈন্য প্রত্যাহারের প্রস্তাব পাকিস্তান মেনে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।