ইসলামী ব্যাংক নয় সীমান্ত সঙ্কট মোকাবেলায় মনোযোগ দিন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সেলিম উদ্দিন
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে অরাজকতা, শিশু নির্যাতন ও সীমান্ত সঙ্কটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিদ্যমান থাকলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসলামী ব্যাংক ইস্যু নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি সরকারের প্রতি এসব জাতীয় সমস্যা সমাধানে অধিক মনোযোগ দেয়ার আহ্বান জানান।
গতকাল বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের একটি রেস্তোরাঁয় প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সেলিম উদ্দিন বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইসলামী ব্যাংক সম্পর্কে যে মন্তব্য করা হয়েছে তা দুঃখজনক। তিনি অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত ছাড়াই বক্তব্য দেয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে করা মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে তথ্যভিত্তিক বক্তব্য দেয়া উচিত। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে অস্থিরতা সৃষ্টি করা বা নেতিবাচক বার্তা দেয়া দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ইসলামী ব্যাংক দুর্বল হয়ে পড়লে তার প্রভাব জাতীয় অর্থনীতির ওপর পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সেলিম উদ্দিন বলেন, পুশ-ইন ইস্যু বর্তমানে একটি জাতীয় সঙ্কটে পরিণত হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারকে সব রাজনৈতিক শক্তিকে সম্পৃক্ত করে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে সময় নষ্ট না করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সবাইকে একসাথে কাজ করা উচিত।
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের গাণিতিক হিসাব নয়; এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। করের হার বৃদ্ধি না করে কর ফাঁকি রোধের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির নামে অতীতে ব্যাপক অপচয় ও লুটপাট হয়েছে। এসব অনিয়ম বন্ধ করে বাজেটের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দেশের উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হবে।
সেলিম উদ্দিন বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন না হওয়ায় নগরবাসী প্রত্যাশিত সেবা ও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে নগর পরিচালনা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। গণতন্ত্রের স্বার্থে একটি শক্তিশালী ও গঠনমূলক বিরোধীদলের প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের পুরো সময় জামায়াতে ইসলামী শিক্ষার্থীদের পাশে ছায়ার মতো ছিল। জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের তালিকা প্রণয়ন ও তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেয়ার ক্ষেত্রেও দলটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।
ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদি।