টেস্ট অধিনায়কত্বে কে এগিয়ে

জসিম উদ্দিন রানা

আমাদের দেশে কি সে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে! কোনো অধিনায়ক দলের ভালোর জন্য বোর্ডের বিপক্ষে কি কোনো কথা বলতে পারেন! কিংবা কাউকে অধিনায়ক করা হলে তিনি কি কোন প্রেজেন্টেশন দেন। তিনি কিভাবে দলকে সাজাতে চান, দলে স্পিনারের আধিক্য থাকবে নাকি পেসারের আধিপত্য থাকবে, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করে তিনি কিভাবে দল সাজাবেন! ইত্যাদি কোনো সুযোগ না দিয়ে হঠাৎ করেই একেকবার একেকজনকে অধিনায়ক বানিয়ে দেয় বোর্ড। এরপর কয়েক মাসের ব্যাবধানে বোর্ড অধিনায়ক বদল করে কিংবা অধিনায়ক নিজেই জানিয়ে দেন তিনি আর অধিনায়কত্ব করবেন না।

দু’দিন আগে নাজমুল হোসেন শান্ত হঠাৎ করেই টেস্ট অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন। এরপরই বাংলাদেশ টেস্ট দলের সামনে তৈরি হলো নতুন প্রশ্ন-কাকে এখন দেয়া হবে লাল বলের দায়িত্বে? বিসিবির হাতে সময় রয়েছে। নভেম্বরে ঘরের মাঠে আয়ারল্যান্ড সিরিজ দিয়েই শুরু হবে বাংলাদেশের পরবর্তী টেস্ট চ্যালেঞ্জ। তবে সময় থাকলেও ভাবনার খাতা খুলেছে বিসিবি। কারণ অধিনায়কত্ব মানে শুধু একজন ক্রিকেটার নয়- এটা ভবিষ্যতের রূপরেখা তৈরির জায়গা।

আপাতত দু’টি নাম ঘুরপাক খাচ্ছে আলোচনায়- মেহেদী হাসান মিরাজ এবং লিটন দাস। শান্ত-মিরাজ যুগলের নেতৃত্বে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্র শুরু করেছিল বাংলাদেশ। সহ-অধিনায়ক মিরাজ ছিলেন সেই পরিকল্পনার অংশ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাকেই এখন অধিনায়ক করার পথটি সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত। মিরাজের পক্ষেই যুক্তি অনেক। দীর্ঘ দিন ধরেই জাতীয় দলে পারফর্ম করছেন, টেস্ট ফরম্যাটেও নিয়মানুবর্তী ও প্রভাবশালী। নেতৃত্বগুণ ও ঠাণ্ডা মস্তিষ্কে পরিস্থিতি সামলানোর দক্ষতাও তার ক্যারিয়ারে স্পষ্ট। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা সিরিজ দিয়ে শুরু করছেন ওয়ানডে নেতৃত্ব-যা বোর্ডের আস্থারই প্রতিফলন।

বারবার অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে নিজেকে প্রমাণ করেছেন লিটন কুমার দাস। তার অধীনে টি-২০তে উইন্ডিজের বিপক্ষে ৩-০ জয়ের স্মৃতি এখনো টাটকা। বিপিএলেও নেতৃত্ব দিয়েছেন, টেস্ট ফরম্যাটে তার ব্যাটিং পারফরম্যান্স এক কথায় দুর্দান্ত। যদিও সাদা বলে ফর্ম ঘিরে প্রশ্ন আছে; কিন্তু লাল বলের ব্যাটসম্যান হিসেবে লিটন বাংলাদেশের সেরা পছন্দগুলোর একটি।

নাজমুল হোসেন শান্ত স্পষ্ট করে দিয়েছেন-তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়ক দলের জন্য ‘কঠিন’ একটা বাস্তবতা তৈরি করে। তার চোখে, নেতৃত্বে বিভাজন মানেই পরিকল্পনার ডালপালা বিস্তার। অথচ মিরাজকে টেস্টেও দিলে দেখা যাবে-টি-২০ বাদে দুই ফরম্যাটেই আলাদা অধিনায়ক, যা কিছুটা ভারসাম্য আনার পথ হতে পারে। তবে যদি লিটনকে টেস্টের দায়িত্ব দেয়া হয়, তিনিই হবেন একমাত্র ক্রিকেটার যিনি শুধু একটি ফরম্যাটে নেতৃত্ব দেবেন না। সে ক্ষেত্রেও কমপক্ষে ফরম্যাট বিভাজন থাকবে দুই ভাগে- এটা কিছুটা শান্তর যুক্তিকে পরোক্ষভাবে সম্মান জানায়।

তাইজুল ইসলাম আগ্রহ প্রকাশ করলেও অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগুণের বিচারে তিনি এখনো পেছনের সারিতে। বিপিএল বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো অধিনায়কত্বের নজির নেই তার। তাসকিন আহমেদের নামও এসেছে, বিশেষ করে বিপিএলে রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজিতে তার প্রশংসিত নেতৃত্বের কারণে। কিন্তু তার ফিটনেস ও বোলিংয়ের ভারসাম্য রক্ষাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

নতুন বোর্ডের দ্বিতীয় সভা আজ। নতুন টেস্ট অধিনায়ক নির্বাচনের বিষয়েও এই সভায় প্রাথমিক আলোচনা হতে পারে।