বজ্রপাতে সারা দেশে ১৪ জনের মৃত্যু

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে গাইবান্ধায় পাঁচজনসহ মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন অনেকে।

গাইবান্ধায় ৫ জন নিহত : গাইবান্ধায় বজ্রপাতে একসাথে তিনজনসহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বিকেলে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নে বজ্রপাতে একসাথে তিনজন মারা যান।

স্থানীয়রা জানান, রোববার বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে গোয়ালে গরু আনার সময় বজ্রপাতের কবলে পড়ে তাদের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন- সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সুজা চৌধুরীর ছেলে ফুয়াদ (৪০), ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি (১৫) এবং নবীর হোসেনের ছেলে মিজান (২০)।

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। হঠাৎ তাদের ওপর সরাসরি বজ্রপাত হয়। একই সময়ে পাশে থাকা একটি গরু মারা যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের জেলা হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের জামিরাচরে বজ্রপাতে ঘোড়াচালক মানিক মিয়ার (৩৫) মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান মন্ডল।

এ ছাড়াও সাঘাটায় বজ্রপাতের শব্দে একবৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। ইউএনও আশরাফুল কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে গাইবান্ধার সাঘাটার পদুম শহরে গোসল করার সময় বজ্রপাতে আহত হলে আরেকজনকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ছাড়াও ফুলছড়ি উপজেলার বুলবুলির চরেও বজ্রপাতে একজন আহত হয়েছেন। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বগুড়ায় যুবক নিহত : বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় জমি থেকে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বিকেলে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এলাকায় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বাড়ির পাশের জমিতে থাকা নিজের ছাগল আনতে যান সুমন। জমিতে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গাবতলী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো: আবু মুসা।

জামালপুরে নারীসহ ২ জনের মৃত্যু : জামালপুরে তীব্র তাপদাহের পর হঠাৎ শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও বজ্রপাতে সদর ও মেলান্দহ উপজেলায় বজ্রপাতে গৃহবধূসহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন সদর উপজেলার লক্ষীরচর ইউনিয়নের চরযথার্থপুর এলাকার হাবিবুর রহমান হাবিবের ছেলে হাসমত আলী হাসু (৫৫) ও মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী পৌর এলাকার কড়ইচুড়া গ্রামের রাজিব কুলির স্ত্রী মর্জিনা আক্তার (২২)।

নিহত মর্জিনার স্বামী রাজিব কুলি বলেন, বিকেলে বাড়ির উঠানে খোলা আকাশের নিচে চুলায় রান্না করছিল তার স্ত্রী। এমন সময় পাশেই বজ্রপাত হয়। এতে মাটিতে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যান মর্জিনা। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। অপর আহত ব্যক্তি শেফালী বেগমকে আহত অবস্থায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আর সদর উপজেলায় নিহতের ভাই রুহুল আমীন (৪৮) বলেন, হাসু সকালে গরুকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য নদীপাড়ে যান। তারপর বিকেলে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয়। তার একটি গরু মারা যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরো তিনজন। তারা হলেন- আনোয়ার (৩৪), শাওন (২৫) ও সুখী (১৪)। তাদের জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে আনোয়ারের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সিরাজগঞ্জে ২ জনের মৃত্যু : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলায় বজ্রপাতে দু’জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান এলাকায় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হাসান শেখ (২৫) নামে এক যুবক মারা গেছেন। তিনি ওই এলাকার আব্দুল হালিম শেখের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, বিকেলে পরিবারের সদস্যদের সাথে নিজ জমি থেকে কাটা ধান মাথায় করে বাড়িতে নেয়ার কাজ করছিলেন হাসান। হঠাৎ আকাশে ঘন মেঘ জমে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। এরই মধ্যে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই হাসানের মৃত্যু হয়।

অপরদিকে তাড়াশ উপজেলায় বজ্রপাতে আব্দুল হামিদ (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল হামিদ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা রজব আলী জানান, বিকেলে বাড়ির পাশে মাঠে কাজ করছিলেন আব্দুল হামিদ। আকস্মিক ঝড় ও বৃষ্টিপাত শুরু হলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। প্রতিবেশীরা মাঠ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

নাটোরে শ্রমিকের মৃত্যু : নাটোরের সিংড়ায় ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সম্রাট হোসেন (২৬) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বিকেলে উপজেলার ঠেংগা পাকুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সম্রাট হোসেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নগরডালা গ্রামের সাজা ফকিরের ছেলে। তিনি ধান কাটার শ্রমিক হিসেবে চলনবিল এলাকায় এসেছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকরা জানান, বিকেলে চলনবিলের মাঠে সম্রাটসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক ধান কাটছিলেন। এ সময় হঠাৎ আকাশ কালো করে বৃষ্টি শুরু হলে সম্রাট ধান কাটা বন্ধ করে মাঠের পাশের একটি ঘরে আশ্রয় নেন। সেখানে হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে অন্য শ্রমিকরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পঞ্চগড়ে চা-শ্রমিকের মৃত্যু : পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে বজ্রপাতে সারওয়ারদ্দী (২১) নামে এক চা শ্রমিককের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মোস্তফা ও জমিরুল নামে আরো দুই শ্রমিক। রোববার সকালে উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সারওয়ারদ্দী ওই গ্রামের আবু সামাদের ছেলে। আহতরা হলেন- একই এলাকার মোস্তফা এবং জমিরুল ইসলাম। তারা পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে ২ জনের মৃত্যু : ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে নারীসহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে উপজেলার সৈয়দপুর ও কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- পীরগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের রশিদুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা আক্তার (৩৫) এবং কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে সেলিনা আক্তার ফসলি মাঠে কৃষিকাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান।

অন্যদিকে বিকেলে কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের ইলিয়াস আলী নিজের জমির ফসল দেখতে মাঠে যান। এ সময় তিনি আকস্মিক বজ্রাঘাতের শিকার হন। পরে স্থানীয়রা তাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়।