সৌরবিদ্যুৎ সেচে বোরোর বাম্পার ফলন, বদলাচ্ছে চরাঞ্চলের কৃষিচিত্র

Printed Edition

ময়মনসিংহ অফিস ও নান্দাইল সংবাদদাতা

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চরাঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ প্রকল্পে বোরো ধানের বাম্পার ফলন পেয়ে উচ্ছ্বসিত কৃষকরা। ভূপৃষ্ঠের পানি ব্যবহার করে পরিচালিত এ সেচ ব্যবস্থায় উৎপাদন যেমন বেড়েছে, তেমনি কমেছে সেচ ব্যয় ও জ্বালানি নির্ভরতা। ফলে চরাঞ্চলের কৃষিতে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন।

গতকাল সোমবার উপজেলার চরবেতাগৈর ইউনিয়নে ২০২৫-২৬ মৌসুমে ‘ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট (সিএসএডব্লিউএম)’ প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের স্থাপিত সৌর সেচ প্রকল্পের মাঠ প্রদর্শনীর ধান কর্তন করা হয়।

প্রকল্পের আওতায় কৃষকরা ব্রি ধান-১০৮ জাতের ধান আবাদ করে উল্লেখযোগ্য ফলন পেয়েছেন। প্রতি একরে গড় ফলন হয়েছে প্রায় ৮০ মণ, যা হেক্টরপ্রতি প্রায় ৭ দশমিক ৮৫ মেট্রিক টন।

প্রকল্পভুক্ত কৃষক চন্দন শিকদার, সোহাগ মিয়া ও বাবুল মিয়া জানান, সৌরবিদ্যুৎ সেচ ব্যবস্থার কারণে বিদ্যুতের লোডশেডিং বা ডিজেল খরচের ঝামেলা ছাড়াই সারা বছর ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করা যাচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমেও পানির সঙ্কট না থাকায় উৎপাদন ব্যয় কমেছে এবং লাভ বেড়েছে। নিজেদের চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত ফসল বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাঈমা সুলতানা বলেন, ভূগর্ভের পানির স্তর নেমে যাওয়া ও ইরি-বোরো মৌসুমে বিদ্যুৎ সঙ্কট কৃষির বড় চ্যালেঞ্জ। সৌর সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের পানি ব্যবহার করে এ সমস্যা অনেকাংশে সমাধান সম্ভব হচ্ছে। কৃষকরা ব্যক্তি উদ্যোগেও নদী-খালসংলগ্ন এলাকায় এ ধরনের প্ল্যান্ট স্থাপন করলে সারা বছর চাষাবাদ বাড়ানো যাবে।

উপজেলায় বর্তমানে চরবেতাগৈর ইউনিয়নে দুু’টি সৌর সেচ প্রকল্প চালু রয়েছে। এতে প্রায় ৬০ জন কৃষক সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, এ উদ্যোগ শুধু বোরো উৎপাদনই বাড়ায়নি, চরাঞ্চলের কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।