ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা
Printed Edition
ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা
পাবনার ঈশ্বরদীতে ইমরান হোসেন সোহাগ (২৫) নামে এক ছাত্রদল নেতাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার সাড়া গোপালপুর এলাকার আখ সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইমরান হোসেন সোহাগ ওই এলাকার মো: ইমানুল হকের ছেলে এবং জিয়া সাইবার ফোর্স ঈশ্বরদী উপজেলা সদস্যসচিব ও উপজেলা ছাত্রদলের প্রস্তাবিত কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর ব্যক্তিগত কাজে ঈশ্বরদী বাজারে আসেন ছাত্রদল নেতা ইমরান হোসেন সোহাগ। কাজ শেষে উপজেলার সাড়া গোপালপুর উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে বন্ধুদের সাথে কথা বলছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে পাকশির তালতলা এলাকার দিক থেকে মুখে কালো কাপড় পরিহিত ১০-১২ জনের একটি গ্রুপ মোটরসাইকেলযোগে এসে অতর্কিত হামলা ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান সোহাগ।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে নিহত সোহাগের লাশ উদ্ধার করে।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নিহতের মাথার একটি অংশ ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, শুক্রবার ময়নাতদন্তের পর তার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলে একই দিন সন্ধ্যার পর নিজ এলাকা শহরের সাড়া গোপালপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
কারা এবং কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্তকার্যক্রম শুরু করেছে।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মমিনুজ্জামান জানান, শুক্রবার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলে শহরের সাড়া গোপালপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযোগ না এলেও নিহতের বাবা জানান, লাশ দাফনের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে ঈশ্বরদী শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকরা।
ঈশ্বরদীতে বিএনপির বিদ্যমান দু’টি গ্রুপ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চললেও গত নির্বাচনে শক্ত প্রতিপক্ষ হয় একে অপরের। ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব হলেও তার প্রতিপক্ষ হয় জাকারিয়া পিন্টু।
এ ঘটনায় জাকারিয়া পিন্টু মুঠোফোনে বলেন, এটা কারো নোংরা রাজনীতির ফল হতে পারে। তিনি বলেন এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক না কেন আমি প্রশাসনকে বলব- চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আর যদি কোনো রাজনৈতিক নেতা এর সাথে জড়িত থাকেন তাদের আহ্বান জানাচ্ছি এ রাস্তা থেকে ফিরে আসুন।