সুনামগঞ্জের হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষক

Printed Edition
bangla-4
নদীর পাড় কেটে মাটি নিয়ে যাচ্ছে জিআইসি : নয়া দিগন্ত

তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ সুনামগঞ্জ থেকে

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকদের দুশ্চিন্তা যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। বছরে একমাত্র বোরো ফসলই তাদের জীবিকার প্রধান ভরসা। পৌষে বীজতলা আর বৈশাখে সোনালি ধানের স্বপ্নে বুক বাঁধেন হাওরপারের কৃষকরা। কিন্তু সেই ফসল রক্ষার প্রধান অবলম্বন হাওর ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের কাজ শুরুতেই ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে।

চলতি বছর সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জসহ জেলার ১২টি উপজেলায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারকাজের উদ্বোধন হয় গত ১৫ ডিসেম্বর। অথচ উদ্বোধনের ২৬ দিন পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ বাঁধে এখনো মাটি কাটার কাজ শুরু হয়নি।

পাউবো সূত্র জানায়, এ বছর সুনামগঞ্জ জেলার ৫৩টি হাওরে ৭০২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৪৫ কোটি টাকা। প্রায় ৫৮৫ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে ১০৪টি স্থানে ক্লোজার (ভাঙা অংশ) রয়েছে। বরাদ্দে কোনো ঘাটতি না থাকলেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতি আশানুরূপ নয়।

গত ১০ ও ১১ জানুয়ারি জামালগঞ্জ উপজেলার পাকনা ও হালির হাওর, ধর্মপাশার ধানকুনিয়া-ধারাম হাওর এবং তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওরের বিভিন্ন বাঁধ ঘুরে দেখা যায়, অনেক বাঁধই অক্ষত রয়েছে। কিছু ক্লোজারে গত বছরের কাজের অর্ধেক মাটি ভরাট বাকি থাকলেও বড় অংশে কাজ শুরু হয়নি। অথচ বাঁধের অধিকাংশ অংশে কাজ করতে তেমন কোনো বাধাও দেখা যায়নি।

জামালগঞ্জ উপজেলায় হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের জন্য ৪১টি পিআইসি গঠন করা হলেও গত শনিবার পর্যন্ত মাত্র ১৬টি প্রকল্পে মাটি কাটার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পাউবোর উপজেলা কার্যালয়। নীতিমালা অনুযায়ী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রকল্প স্থান নির্ধারণ ও পিআইসি গঠন শেষ করে ১৫ ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও কাজ শুরু না হওয়ায় আগাম বন্যায় ফসলহানির আশঙ্কায় ভুগছেন কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, অনেক অক্ষত বাঁধেও আগের মতো বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আবার পিআইসি গঠনে নিকটবর্তী গ্রামের কৃষকদের বাদ দিয়ে দূরের লোকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, অক্ষত বাঁধে বরাদ্দ রেখে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অনিয়মের বিরুদ্ধে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

এ বিষয়ে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, হাওরের পানি নামতে দেরি হওয়ায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।