শাকসু নির্বাচন ২০২৬
শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে হবে
Printed Edition
শাবি প্রতিনিধি
শাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের এজিএস প্রার্থী জহিরুল ইসলাম জহির। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সিলেট বিভাগের সহ-সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন এবং বর্তমানে তিনি বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নয়া দিগন্ত : আপনাকে ও আপনার প্যানেলকে কেন ভোট দেবেন শিক্ষার্থীরা?
জহিরুল ইসলাম জহির : আমাদের প্যানেলটি শুধু ছাত্রদলকে কেন্দ্র করে গঠিত নয়, এটি ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল হলেও এখানে ছাত্রদলের তরুণ নেতৃত্বের পাশাপাশি এমন অনেক শিক্ষার্থী রয়েছেন, যারা বিগত সময়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে ও সমস্যা নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন এবং ক্যাম্পাসে সুপরিচিত ও গ্রহণযোগ্য মুখ। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমাদের প্যানেলকে গ্রহণ করবে- এর প্রধান কারণ হলো, আমাদের অধিকাংশ প্রার্থী ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময় ও জুলাই আন্দোলনে অগ্রগামী ভূমিকা রেখেছেন। শাকসু থাকুক বা না থাকুক, আমাদের কার্যক্রম কখনো থেমে থাকেনি। শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যা বা সঙ্কটে আমাদের প্রার্থীরা ক্যাম্পাস, সিলেট কিংবা দেশের যেকোনো প্রান্তে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমাদের বিশ্বাস, শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়েই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে সেগুলোর সমাধান আদায় করাই শাকসুর মূল দায়িত্ব। আমরা অতীতেও সেই দায়িত্ব পালন করেছি এবং এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর শাকসু একটি গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ফিরছে, এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যদি আমাদের ওপর আস্থা রাখেন, তাহলে আমরা তাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে চাই।
নয়া দিগন্ত : আপনার দৃষ্টিতে ক্যাম্পাসের প্রধান সমস্যাগুলো কী কী?
জহিরুল ইসলাম জহির : সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে আমরা যে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছি, তার মধ্যে নিরাপত্তা অন্যতম। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্তান পাঠানোর ক্ষেত্রে পরিবারের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ থাকে নিরাপত্তা নিয়ে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময় থেকেই আমরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছি। সিলেট শহরে সিএনজি চালকদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার ভূমিকা রেখেছি। এ বিষয়ে সিলেট জেলা প্রশাসক ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে এবং তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব। সম্প্রতি পিএমই বিভাগের শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকার ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি করেছে। আমরা মনে করি, শিক্ষক নিয়োগসহ প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি এখনো কাক্সিক্ষত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। শাকসুতে দায়িত্ব পেলে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা দৃঢ় অবস্থান নেবো।
পরিবহন সঙ্কটও একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। আমরা ইতোমধ্যে কিছু অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি এবং বাস সংখ্যা ও রুট বাড়ানোর দাবিতে আমাদের কার্যক্রম চলমান থাকবে। আবাসন সঙ্কট নিয়েও আমরা বাস্তবভিত্তিক হিসাব করেছি। বর্তমানে মোট শিক্ষার্থী প্রায় সাড়ে ৯ হাজার। নতুন দু’টি হল চালু হলে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থীর আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বাকি প্রায় আড়াই হাজার অনাবাসিক শিক্ষার্থীর জন্য মাসিক দুই বা তিন হাজার টাকা ভাতা দেয়া হলে বছরে পাঁচ বা ছয় কোটি টাকার প্রয়োজন হবে, যা বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসির জন্য বড় কোনো অঙ্ক নয়। এ ছাড়া মেডিক্যাল সেন্টারের সীমাবদ্ধতা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। পর্যাপ্ত আসন, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব রয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে চলমান নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের দ্বারা কিছু নারী শিক্ষার্থী হেনস্থার শিকার হওয়ার অভিযোগও আমরা পেয়েছি। বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও এখনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। একই সাথে সিসিটিভি মনিটরিং ব্যবস্থাও নিয়মিত কার্যকর নয়।
নয়া দিগন্ত : এসব সমস্যা সমাধানে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবেন?
জহিরুল ইসলাম জহির : এসব সমস্যার সমাধান ব্যক্তিগত উদ্যোগে সম্ভব নয়। শাকসু প্রতিনিধি হিসেবে আমাদের একটি প্রাতিষ্ঠানিক ম্যান্ডেট থাকবে, যা ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সরকার ও সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা ও দরকষাকষি করা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত আবাসন, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা খাতের বাজেট যথাযথভাবে নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব। অতীতেও আমরা দাবি আদায় করেছি এবং ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
এ ছাড়া নিরাপত্তা জোরদারে আমরা যেসব পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব দিচ্ছি-সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়মিত মনিটরিং ও রক্ষণাবেক্ষণ, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা প্রহরীর সংখ্যা বৃদ্ধি, নিয়মিত টহল টিম কার্যকর করা, অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত সমাধানের জন্য কার্যকর মেডিয়েশন ব্যবস্থা চালু। এ ছাড়া মেডিক্যাল সেন্টারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিয়মিত ভিজিট, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার ঘাটতি দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেয়া হবে। ধাপে ধাপে একটি আধুনিক মেডিক্যাল সেন্টার গড়ে তোলার লক্ষ্য আমাদের রয়েছে।
নয়া দিগন্ত : শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?
জহিরুল ইসলাম জহির : দীর্ঘ ২৮ বছর পর আমরা একটি নতুন ইতিহাসের মুখোমুখি। এই ইতিহাসে যেন কেউ বঞ্চিত না হয় এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমি চাই, আপনারা সবাই অন্তত ভোট দিতে আসুন এবং নিজের অধিকার প্রয়োগ করুন। গত সময়ে ক্যাম্পাসে কারা কী ধরনের ভূমিকা রেখেছে, কারা শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল সেটা বিবেচনা করেই আপনারা ভোট দেবেন। যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেয়া যেমন আপনার অধিকার, তেমনি দায়িত্বও।