মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় আগাম সতর্কতায় সরকার, জ্বালানি সাশ্রয়ের নির্দেশনা

Printed Edition
Back------1
জ্বালানি তেল সঙ্কটের গুজবে পেট্টলপাম্পে গতকাল তেল কেনার হিড়িক পড়ে যায়। ছবিটি রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে তোলা : নয়া দিগন্ত

বিশেষ সংবাদদাতা

বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য বিঘেœর আশঙ্কা থেকে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং জ্বালানি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি কিংবা সরবরাহে বিঘœ ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। সেই লক্ষ্যেই সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং দেশের সচেতন নাগরিকদের জ্বালানি সাশ্রয়ের বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

নির্দেশনায় প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারে সাশ্রয়ী পদ্ধতি অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রান্না ও অন্যান্য কাজে গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। অপ্রয়োজনীয়ভাবে গ্যাসচালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি গ্যাস পাইপলাইন ও বার্নার নিয়মিত পরীক্ষা করে গ্যাস লিকেজজনিত অপচয় রোধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার থেকেও সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমানোর ক্ষেত্রেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত যানবাহনের পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং সম্ভব হলে কার-পুলিং বা শেয়ারিং পদ্ধতিতে যাতায়াতের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। একই সাথে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ বা যাতায়াত সীমিত রাখার মাধ্যমে জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়েও জ্বালানি সাশ্রয়ের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি দফতর ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে অফিস চলাকালীন এবং অফিস-পরবর্তী সময়েও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার বন্ধে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা, অতিরিক্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি ব্যবহার কমানোর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; এ ক্ষেত্রে জনগণের সচেতন অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়লে আমদানি-নির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ওপর তার প্রভাব পড়া স্বাভাবিক। তাই আগাম সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করলে সম্ভাব্য সঙ্কট মোকাবেলা সহজ হবে। একই সাথে জ্বালানির অপচয় কমানো গেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও কিছুটা কমবে। সরকার মনে করছে, সম্মিলিতভাবে জ্বালানি সাশ্রয়ী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে সম্ভাব্য বৈশ্বিক সঙ্কটের মধ্যেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে। এ জন্য জাতীয় স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।