এ সপ্তাহেও শীত কমার সম্ভাবনা নেই কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহ চলছে
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
এ সপ্তাহেও শীত কমার সম্ভাবনা নেই। এ দিকে সারা দেশে কুয়াশা পড়ছে দেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় এখনো মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এ ছাড়া সারা দেশেই মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা বিরাজমান। কুয়াশার কারণে দিনের অনেকটা সময় কুয়াশার চাদর ভেদ করতে পারে না বলে সূর্যালোক মাটিতে এসে পৌঁছতে পারে না। তাই শীতের মাত্রা আগের মতোই রয়ে গেছে। একদিনের সূর্যালোকই শৈত্যপ্রবাহ দূরে ঠেলে দিতে পারে কিন্তু কুয়াশার কারণে তা হচ্ছে না। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গতকাল শনিবার রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও দিনের তাপমাত্রা বাড়বে না কিন্তু আজ রোববার দিবাগত রাতের তাপমাত্রা কমে যেতে পারে। কিন্তু পরদিন সোমবার দিনের তাপমাত্রা রোববার থেকে ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যেতে পারে। সে যে কমবে, তা পরের তিন দিন অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
তবে ১৫ জানুয়ারি থেকে পরের ৫ দিনের পূর্বাভাসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে পূর্বাভাস রয়েছে। অতএব আগামী ৫ দিন স্পষ্ট পূর্বাভাস রয়েছে তাপমাত্রা কমে যাবে বলে।
বাংলাদেশে সে কুয়াশা বিরাজ করছে সেটা দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে কিছু হচ্ছে আর বাকিটা আসছে প্রতিবেশী দেশটি থেকে। প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা কুয়াশার সাথে ধোঁয়াসহ অন্যান্য ভারী ধাতুর মিশ্রণও রয়েছে। যে কারণে বাংলাদেশের বিশেষ করে ঢাকা শহরের বায়ুমান পৃথিবীর শীর্ষ দূষিত বায়ুর শীর্ষে থাকে। ভারত থেকে আসা কুয়াশায় যে স্মগ (স্মোক ও ফগ থেকে সৃষ্ট শব্দ) আসে তাতে ২.৫ মিলিগ্রামের চেয়ে ক্ষুদ্র কণা থাকে যেগুলো কোনো বাধা ছাড়াই নাকের ছিদ্রের মধ্যে থাকা ছাকনি এবং ফুসফুসের অ্যালভিওলাস ভেদ করে ফুসফুসের ভেতরে ঢুকে যায়। এ ক্ষুদ্র ভারী ধাতুর কণা রক্তে মিশে হৃদপিণ্ডে চলে যায় এবং কোষকে আক্রান্ত করে। ফলে নানা ধরনের শারীরিক ক্ষতি হয়ে থাকে, ক্যান্সারও হয়ে থাকে এ কারণে।
কানাডা-প্রবাসী আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ মোস্তফা কামাল পলাশ জানিয়েছেন, গত শুক্রবার রাত ৩টার ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত কুয়াশার চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য থেকে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা সন্ধ্যার (গত শুক্রবার) পর থেকে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোর উপর দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা শুরু করেছে। রংপুর বিভাগের সব জেলার উপরে ঘন থেকে খুবই ঘন কুয়াশার উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। এ ছাড়া, রাজশাহী বিভাগের উত্তর-পশ্চিম দিকের জেলাগুলোর উপরে হালকা থেকে মাঝারি ঘনত্বের কুয়াশার উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার উপরে মাঝারি ঘনত্বের কুয়াশার উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। গতকাল শনিবার বেলা ১২টার পূর্বে রংপুর বিভাগের জেলাগুলোর উপরে সূর্যের আলো দেখা যায়নি। রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোতে গতকাল বেলা ১১টার পর সূর্যের আলো দেখা গেছে।
গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া ও চুয়াডাঙ্গায় ৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শৈত্যপ্রবাহের দিক থেকে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গত শুক্রবার এ দেশের সর্বনিম্নœ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল শনিবার ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাজশাহী বিভাগের শহরগুলোতে রেকর্ড হয়েছে। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য বিভাগের জেলাগুলোতে নিম্নœ তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরেই ছিল। গতকাল রাজধানী ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। যশোর, চুয়াডাঙ্গা এবং কুুষ্টিয়া জেলাসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং কোথাও কোথাও তা অব্যাহত থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশের রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি, পঞ্চগড়ে কনকনে শীতে জনজীবন কাবু
আমাদের পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি জানান, কনকনে শীত, প্রচণ্ড ঠাণ্ডা। বইছে হিম বাতাস। সাদা কুয়াশায় জনজীবন অতিষ্ঠ। তিন দিন ধরে দিবা-নিশি ঝির ঝির বৃষ্টির মতো ঘন কুয়াশা ঝরছে । পঞ্চগড়ে চলছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রার পারদ ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৯ শতাংশ, প্রতি ঘণ্টায় বাতাস ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার গতিবেগে চলাচল করছে।
পঞ্চগড় হিমালয়ের অতি নিকটে। পাহাড়ি হিম বাতাস ও কুয়াশার কারণে সাধারণ মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। সড়ক-মহাসড়কে ট্রাক, বাস, মাক্রোবাস হেড লাইট জ¦ালিয়ে চলাচল করছে। পুরাতন কাপড়ের দোকানে অসহায় মানুষজনের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। এক সপ্তাহ ধরে সাদা কুয়াশা ঢেকে রেখেছে আকাশ। হিম বাতাস আর ঘন কুয়াশায় এলাকার মানুষজন কাবু হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ও শীতের কারণে আলু ক্ষেত, রসুন পেঁয়াজসহ রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, গতকাল শনিবার সকাল ৯টার সময় ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং বাতাসের আর্দ্রতা ৯৯ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার চলছে।