ময়লার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারীরা

ডাম্পিং স্টেশন সঙ্কটে কালিয়াকৈর পৌরসভা

Printed Edition
bangla-3
কালিয়াকৈর পৌরসভায় যেখানে সেখানে আবর্জনার স্তূপ : নয়া দিগন্ত

মীর মোহাম্মদ ফারুক, কালিয়াকৈর (গাজীপুর)

গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভা প্রথম শ্রেণীর হলেও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে নগরজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ৯টি ওয়ার্ডজুড়ে সড়কের মোড়, মহাসড়কের পাশ এমনকি সড়কদ্বীপেও গৃহস্থালি ময়লার স্তূপ জমে থাকায় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ বাসিন্দারা। নিয়মিত কর পরিশোধ করেও কাক্সিক্ষত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন পৌরবাসী।

সরেজমিন দেখা যায়, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বটতলা রোড ও ফারইস্ট কারখানা গেট এলাকায় সড়কের ওপর পচা ময়লা ফেলে রাখা হয়েছে। বর্ষায় বৃষ্টির পানির সাথে মিশে এসব আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ে, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ, হরিণহাটি, সফিপুর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র। এমনকি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক-সংলগ্ন খাড়াজোড়া উড়ালসেতু ও লতিফপুর জোড়া ব্রিজ এলাকাতেও ময়লার স্তূপ চোখে পড়ে। এতে পথচারী ও যাত্রীদের নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে।

৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফরিদুল হক বলেন, ‘দুই সপ্তাহ ধরে ময়লাওয়ালা আসে না। গন্ধে বাড়িতে থাকা দায়, মশার উপদ্রবও বেড়েছে।’ বটতলা এলাকার আনসু মিয়া অভিযোগ করেন, ‘এভাবে আবাসিক এলাকায় ময়লা ফেলা উচিত নয়। দুর্গন্ধে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে।’ মহাসড়কে চলাচলকারী বনশ্রী পরিবহনের এক যাত্রী জানান, ‘ময়লার গন্ধে বাসের ভেতরে বসে থাকা যায় না, অনেকেই বমি করেন।’ ধলেশ্বরী পরিবহনের চালক জহিরুল বলেন, ‘নাক চেপে ধরব নাকি গাড়ি চালাব, বোঝা যায় না।’

পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থায় ভাঙনের কথা স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ময়লা পরিবহনে নিয়োজিত খায়রুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলতে গেলে বন বিভাগের বাধার মুখে পড়তে হয়। এতে গাড়িচালকরা ময়লা তুলতে অনীহা দেখাচ্ছেন।

পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম তালুকদার বলেন, স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় এই সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এতদিন বন বিভাগের জমিতে ময়লা ফেলা হতো, তবে বর্তমানে সেখানে বাধা দেয়ায় নতুন জায়গা খোঁজা হচ্ছে। অনুমতি মিললেই দ্রুত অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের প্রস্তাবনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা টেকসইভাবে পরিচালনা সম্ভব হবে।

নগরবাসীর দাবি, অস্থায়ী সমাধান নয়, দ্রুত স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন, নিয়মিত ময়লা অপসারণ এবং তদারকি জোরদার করতে হবে। অন্যথায় স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশদূষণ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।