এবার কি শিরোপা প্রোটিয়াদের
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
টি-২০ বিশ্বকাপের চলমান আসরে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে ইতোমধ্যে শিরোপা জয়ের ইঙ্গিত দিয়েছে প্রোটিয়ারা। বিশাল ব্যবধানে দল দু’টিকে হারিয়ে নিজেদেরকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রমাণ করেছে দলটি। সংক্ষিপ্ত ভার্সনের এই আসরে নিশ্চিত করেছে সেমিফাইনালও। শেষ চারে ওঠার পথে টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত একমাত্র অপরাজিত এইডেন মার্করামের দল। তবে নকআউট পর্বের চাপ সামলানোই দলটির সামনে এখন আসল চ্যালেঞ্জ।
টি-২০ বিশ্বকাপের চলমান আসরে বোলিং ও ব্যাটিং বিভাগে ভারসাম্য একটি দল দক্ষিণ আফ্রিকা। অতীতে নকআউট পর্বে বারবার ব্যর্থ হওয়ায় দলটির সাথে জড়িয়ে আছে ‘চোকার’ তকমা। তবে বর্তমান দলে বোলিং বিভাগে শক্তিশালী পেস আক্রমণে অগ্রভাগে আছেন কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিডি। আছেন মার্কো জনসেন ও করবিন বোশের মতো দুর্দান্ত অলরাউন্ডার। ব্যাটিংয়ে অধিনায়ক এইডেন মার্করাম, কুইন্টন ডি ককদের মতো অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ ব্যাটিং লাইনআপ। এবারের টি-২০ বিশ্বকাপে তারই প্রমাণ দিচ্ছে দলটির ক্রিকেটাররা। সেই সাথে অতীতের ‘চোকার’ তকমা দূর করার জন্য শিরোপা জয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসীও।
বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টগুলোর নকআউট পর্বে বা জয়ের খুব কাছে গিয়ে চাপের মুখে ভেঙে পড়ে দক্ষিণ আাফ্রিকা। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে গিয়ে তারা হেরে যায়। যার ফলে ‘চোকার’ তকমা দেয়া হয়েছে প্রোটিয়া ক্রিকেট দলকে। ১৯৯২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে একাধিক ওয়ানডে ও টি-২০ বিশ্বকাপে ফেবারিট হিসেবে খেলতে নেমেও সেমিফাইনাল বা কোয়ার্টার ফাইনালে অবিশ্বাস্যভাবে পরাজিত হয়ে তারা এই তকমা পেয়েছে।
তবে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে গত বছর জুনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ‘চোকার’ অপবাদ কিছুটা ঘুচিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। লর্ডসে প্রতিযোগিতার ২০২৩-২৫ চক্রের ফাইনালের চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনেই কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছেছে প্রোটিয়ারা। অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। এতে আইসিসি আয়োজিত টুর্নামেন্টে ২৭ বছরের লম্বা ট্রফিখরাও কাটিয়েছিল টেম্বা বাভুমার দল। এর আগে ১৯৯৮ সালে আইসিসি নকআউট বিশ্বকাপে (এখনকার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি) চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তারপর বহুবার ‘ফেবারিট’ তকমা গায়ে থাকলেও তারা ব্যর্থ হয়েছে সাফল্য পেতে।
১৯৯৯ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। যেখানে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের খুব কাছে গিয়ে ল্যান্স ক্লুজনার ও অ্যালান ডোনাল্ডের ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটের কারণে ম্যাচটি টাই হয়। যার ফলে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় দলটি। ১৯৯২ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালেও বৃষ্টি আইন জটিলতায় শেষ ১৩ বলে ২২ রানের লক্ষ্যটি হয়ে যায় ১ বলে ২২ রান। ২০১৫ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফেবারিট হিসেবে নেমেও পরাজিত হয়েছিল তারা।
ঐতিহাসিকভাবে বড় ম্যাচের মানসিক চাপ নিতে না পারার কারণে এই তকমাটির সাথে এখনো জড়িয়ে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তাদের একেকটি ট্র্যাজেডির গল্প নাড়া দিয়েছে নিরপেক্ষ ক্রিকেপ্রেমীদেরও। তবে আবারো একটি বৈশ্বিক শিরোপার স্বাদ পাওয়ার অপেক্ষায় দলটি। নতুন দিগন্ত উন্মোচনে আর মাত্র দুই ম্যাচ দূরে অবস্থান করছে দক্ষিণ আফ্রিকা। চলমান বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অপরাজিত থেকে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। এবার কি তাহলে ‘চোকার’ তকমা থেকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বের করে নিতে পারবেন এইডেন মার্করামরা।