মাধবদীতে ধরা ছোঁয়ার বাইরে হত্যা ও ধর্ষণের মূল হোতা
Printed Edition
মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা
নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে কিশোরীকে পরিকল্পিত হত্যার ঘটনায় এই পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন ধর্ষণ ও হত্যার মূল মাস্টারমাইন্ড নূরা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে অন্য আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারে নির্দেশ দিয়েছেন ডিআইজি ও স্থানীয় এমপি খায়রুল কবির খোকন।
১৫ বছরে আমেনা আক্তার অনেক স্বপ্ন নিয়ে বরিশাল থেকে বাবা-মার সাথে এসেছিলেন নরসিংদীতে। মাধবদী থানার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থেকে বাবা-মা দু’জনেই কাজ করতেন কারখানায়। মেয়েটিও একটি কারখানায় সম্প্রতি যোগ দিয়েছিল। সেখানেই পরিচয় হয় স্থানীয় বখাটে নূরার সাথে। তাকে নূরা প্রথমে প্রেমের প্রস্তাব দিলেও পরে গত ১৫ দিন আগে পাঁচ বন্ধুকে নিয়ে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আহম্মদ আলী দেওয়ান বিচারের দায়িত্ব নেন। কিন্তু দায়িত্ব নিলেও পরিবারটি স্থানীয় না হওয়ায় উল্টো দোষ তোলেন মেয়েটির দিকে। অভিযোগ উঠে মেম্বারের ছেলের বন্ধু হওয়ায় ধর্ষকদের কাছ থেকে আট হাজার টাকা নিয়ে তিনি বিচার কার্য প্রভাবিত করেছেন। সেই সাথে মেয়েটির পরিবারকে নির্দেশ দেয় এই এলাকা ছাড়তে।
বাবা মো: আশরাফ হোসেন ও মা ফাহিমা বেগম জানান, এরই মধ্যে বুধবার রাতে তারা মেয়েকে খালার বাড়িতে নিরাপদে রেখে আসতে যাওয়ার সময় নূরার নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক ছুরি ঠেকিয়ে তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দীর একটি সরিষা খেতে পাওয়া যায় আমেনার লাশ। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
লোমহর্ষক এই ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে শোকের ছায়া। সবাই চাইছেন দৃষ্টান্তমূলক বিচার। এ দিকে শুক্রবার সকালে ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। এ সময় তিনি জানান, এই ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মেয়েটির মা বাদি হয়ে মামলা করেছেন। ইতোমধ্যেই সাবেক মেস্বার আহম্মদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে ইমরান দেওয়ান, ধর্ষক নূরার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব এবং এবায়দুল্লাহ, হোসেন বাজার এলাকার গাফফারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণে জড়িত দু’জন এবং বিচার কার্য ও সহযোগিতাকারী তিনজনসহ মোট পাঁচজন রয়েছেন। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। দ্রুত সমেয়র মধ্যেই তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
সেই সাথে তিনি আশ্বাস দেন, কোনো অপরাধীই রেহাই পাবে না। ঘটনাটি অতীব গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। নরসিংদী সদর এমপি খায়রুল কবির খোকন বলেন আমি ঘটনা শোনার সাথে সাথে নরসিংদীর পুলিশ সুপার ও মাধবদী থানার ওসিকে ফোন করে নির্দেশ দিয়েছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদেরকে গ্রেফতার করে সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে যে দলেরই হোক আটক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ দিকে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে কিশোরীকে পরিকল্পিতভাবে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ফের সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সারা দেশে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সবাই অপরাধীকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।