নিজস্ব উদ্যোগে ৪ জেলায় ভোট পর্যবেক্ষণে যাবে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস

Printed Edition
first-4
সিইসির সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন : নয়া দিগন্ত

বিশেষ সংবাদদাতা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কোনো ফরমাল বা প্রথাগত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে না। তবে ঢাকায় অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস নিজস্ব উদ্যোগে চারটি জেলায় ভোটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের একটি স্বতন্ত্র (ইন্ডিপেন্ডেন্ট) প্রতিনিধিদল এবং দূতাবাসের কর্মকর্তারা নির্বাচন কমিশনের তালিকাভুক্ত ‘ফরমাল অবজার্ভার’ হিসেবে নয়, বরং নিজেদের উদ্যোগে ভোটের সার্বিক অবস্থা দেখতে মাঠে যাবেন। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কোনো আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি।

গতকাল আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সাথে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রতিনিধিদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ইসি সচিব।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানিয়েছে- তারা ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনা- এই চার জেলায় ভোট পর্যবেক্ষণ করবে। তারা কোন কোন এলাকায় যাবেন, সে সম্পর্কিত একটি তালিকা কমিশনকে দেয়ার কথা বলেছেন। তালিকা পাওয়া গেলে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমন্বয় (ফ্যাসিলিটেশন) করবে।

তিনি আরো জানান, ভোটের দিন সারা দেশে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ নিরাপত্তা সদস্য বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালন করবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং নির্বাচনকালীন সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে মার্কিন প্রতিনিধিদের অবহিত করা হয়েছে।

ভোটের দিন যানবাহন চলাচল সীমিত রাখা নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধিরা জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কোন সময় থেকে কত সময় পর্যন্ত এবং কোন কোন যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে- তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ই নির্ধারণ করবে।

বৈঠকে ব্যালট পেপারের আকার, ছাপার প্রক্রিয়া, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান ইসি সচিব। তিনি বলেন, পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াটি দূতাবাস পর্যবেক্ষণ করেছে এবং তারা মন্তব্য করেছে- এটি একটি জটিল ও শ্রমসাধ্য কাজ। তবে সামগ্রিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা দেখে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আচরণবিধি লঙ্ঘন সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ মার্কিন প্রতিনিধিরা উত্থাপন করেছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, তারা কোনো অভিযোগ করেননি। বরং নির্বাচন কমিশনের অভিযোগ ব্যবস্থাপনা কাঠামো সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। কমিশনের কমপ্লেন ম্যানেজমেন্ট সেল, অনুসন্ধান কমিটি এবং মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা কীভাবে কাজ করছেন- সে বিষয়ে তাদের অবহিত করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, আজও একটি জেলা থেকে একটি অভিযোগ এসেছে, যা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

এ দিকে আগামী ৩১ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর নারী সমাবেশের ডাক এবং দলটির কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।

যুক্তরাষ্ট্র এই নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেয় না। নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশী জনগণের উপর নির্ভর করে এবং কেবল বাংলাদেশী জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশী জনগণ যে সরকারকে তাদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নির্বাচিত করবে, আমরা ভবিষ্যতে তার সাথে কাজ করতে প্রস্তুত।

আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে বুধবার দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সাথে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের সাথে বৈঠক সম্পর্কে কথা বলেন। মার্কিন প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন, দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা ডেভিড মু, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ।

রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে কথা বলার জন্য আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে বৈঠক করলাম। খুব ভালো একটা বৈঠক শেষ করেছি। তিনি আমাকে নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে সব নীতি, প্রস্তুতি এবং পদ্ধতি গ্রহণ করেছে সে সম্পর্কে অনেক কিছু ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, মার্কিন সিনেটের সামনে আমার নিশ্চিতকরণ শুনানির আগে যেমনটি আমি বলেছিলাম, আসন্ন নির্বাচনগুলো নিয়ে এবং সেই নির্বাচনের ফলাফলের জন্য খুব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, গত সপ্তাহে যখন আমি প্রধান উপদেষ্টার সাথে দেখা করেছিলাম, তিনি আমাকে বলেছিলেন যে তিনি আশা করেন নির্বাচনের দিনটি একটি উৎসবমুখর দিন হবে। আমিও সেই আশা করি। তিনি বলেন, আমিও আশা করি যে এটি একটি উৎসবমুখর নির্বাচনের দিন হবে। যেখানে বাংলাদেশী জনগণ নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারবে। বিশ্বাস করি এটি একটি অত্যন্ত সফল নির্বাচন হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আমার সাথে যে তথ্য ভাগ করে নিয়েছেন তাতে আমি খুব ভালো বোধ করছি। আপনাদের সবার মতো আমিও ১২ ফেব্রুয়ারির ফলাফল দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।