রাজনৈতিক বিরোধের জেরে হামলা

হাতিয়ায় তারাবির পর ইমামকে পিটিয়ে আহত

Printed Edition

হাতিয়া (নোয়াখালী) সংবাদদাতা

নোয়াখালীর হাতিয়ায় তারাবির নামাজ শেষে এক মসজিদের ইমামকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে চরকিং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরবগুলা গ্রামে হাজী রগবত আলী জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। আহত ইমাম রবিয়ল হোসেনকে রাতেই হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রবিয়ল হোসেন স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই মসজিদে ইমামতি করে আসছেন।

পরিবারের দাবি, সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে তিনি শাপলা কলি প্রতীকের এক প্রার্থীর সমর্থক ছিলেন এবং তার বিজয়ের জন্য দুই খতম কুরআন পড়ার মানত করেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে তার ওপর হামলা করা হয়েছে।

স্বজনদের ভাষ্য, ঘটনার দিন তারাবির নামাজ শেষে মোটরবাইকে করে বাড়ি ফেরার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তার পথ রোধ করে দাঁড়ায়। এ সময় তিনি মোটরবাইক থেকে নেমে মসজিদের ভেতরে তার নিজ কক্ষে চলে যান। পরে হামলাকারীরা ইমামের কক্ষের দরজা ভেঙে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে এনে মারধর করে। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে এবং হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীর বাবা মোহাম্মদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন- রুবেল, বাবুল, ওসমান, সুমন, মিরাজ, আকরাম, শাখাওয়াত ও শাহারাজসহ কয়েকজন তার ছেলের ওপর হামলা চালায়। মারধর করে তারা মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল ও মসজিদের কিছু টাকাও নিয়ে যায়। হামলাকারীদের মধ্যে রুবেল চরকিং ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে দাবি করেন তিনি।

হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, আহতের পিঠ, পায়ের গোড়ালি ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে।

আহত ইমামকে দেখতে হাসপাতালে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীর লোকজন এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, তিনি হাসপাতালে গিয়ে ইমামের খোঁজখবর নিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত রুবেলকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে বলা হয়েছে।

হাতিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ কবির উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।