মতলবে স্কুলে উপস্থিতি কমছে কোচিংবাণিজ্যের ফাঁদে শিক্ষার্থীরা
বেড়েছে বাল্যবিয়ের ঝুঁকি
Printed Edition
সুমন আহমেদ মতলব (চাঁদপুর) থেকে
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে কমতে শুরু করেছে। একই সাথে বিদ্যালয়ের বাইরে কোচিং বাণিজ্যের বিস্তার শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অনীহা তৈরি করছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই এলাকায় আবারো বেড়েছে বাল্যবিয়ের প্রবণতা, যা সামগ্রিক শিক্ষা-পরিবেশের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মতলব উত্তর উপজেলায় ৪২টি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে চলতি শিক্ষাবর্ষে দৈনিক ১৫-২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ভোর ও সন্ধ্যার কোচিংয়ে ব্যস্ততার কারণে শিক্ষার্থীরা শ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং নিয়মিত স্কুলে যেতে আগ্রহ হারাচ্ছে। অনেকেই কোচিংকে ‘আবশ্যিক’ ভাবায় বিদ্যালয়ে উপস্থিতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।
২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার পাসের হার ৪৯ দশমিক ৬০ শতাংশ, ভোকেশনালে ৬৫ দশমিক ১০ শতাংশ এবং দাখিলে ৪৯ দশমিক ৫১ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৮১ জন। তবে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার নেমে আসে মাত্র ২৩ দশমিক ০২ শতাংশে। জীবগাঁও জেনারেল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১৭ জন অংশ নিয়ে একজনও পাস করেনি।
অভিভাবক ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কিছু শিক্ষক বিদ্যালয়ের সময়ে বাইরে নিজস্ব বা ভাড়া করা কক্ষে কোচিং পরিচালনা করছেন, যা বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান ব্যবস্থা ব্যাহত করছে। অনেক অভিভাবক জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে, স্কুলে নয়, কোচিংয়েই মূল পাঠ দেয়া হয়।
এদিকে উপজেলার গ্রামীণ এলাকায় বাল্যবিয়ের প্রবণতা আবারো বাড়ছে। উপজেলা প্রশাসন গত কয়েক মাসে কয়েকটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছে। এক অভিভাবক বলেন, ‘মেয়ের নিরাপত্তা আর অতিরিক্ত খরচ, দুই মিলিয়ে অনেকে আগেভাগে বিয়ের চিন্তা করছে।’
কয়েকটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য, অভিভাবকদের সাথে দুর্বল যোগাযোগ, অনিয়ন্ত্রিত মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং সহপাঠ কার্যক্রমের অভাবও উপস্থিতি কমার অন্যতম কারণ।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, ‘উপস্থিতি কমা ও কোচিং নির্ভরতা বাড়াকে অগ্রাধিকার দিয়ে নজরদারি করা হচ্ছে। নীতিমালা না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, স্কুলে উপস্থিতি বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ এবং বাল্যবিয়ে রোধে ইউনিয়নভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।