উজ্জীবিত পিএসজির সামনে বিধ্বস্ত লিভারপুল
Printed Edition
ক্রীড়া ডেস্ক
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে আজ পার্ক দে প্রিন্সেসে মুখোমুখি হচ্ছে পিএসজি ও লিভারপুল। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা নিজেদের মাঠে ফেবারিট হিসেবে নামবে। অন্যদিকে টানা হারে আত্মবিশ্বাসের সঙ্কটে ভুগছে আর্নে স্লটের দল। লিভারপুলকে গত আসরে বিদায় করার পর এবারো আধিপত্য ধরে রাখতে মরিয়া পিএসজি। গত বছর রাউন্ড অফ ১৬-এ পিএসজি পেনাল্টিতে লিভারপুলকে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতার শিরোপা ঘরে তুলেছিল লিগ চ্যাম্পিয়নরা। এদিকে ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি হচ্ছে দুই স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা ও অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। স্প্যানিশ ফুটবলের অন্যতম শীর্ষ লড়াই হিসেবে গণ্য হয় এই লড়াইকে। কৌশলী ফুটবল ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে লা লিগার “পার্টিদাজো” বা বড় ম্যাচ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় দুই দলের মুখোমুখি মহারণকে। দুটো ম্যাচই বাংলাদেশ সময় আজ দিবাগত রাত ১টায় শুরু হবে।
বর্তমান সময়ে দারুণ ছন্দে আছে লুইস এনরিকের দল পিএসজি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা শেষ ৪ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ১৫ বার বল পাঠিয়েছে। আর শেষ ষোলোর দুই লেগে চেলসিকে ৮-২ ব্যবধানে হারিয়ে উঠেছে কোয়ার্টারে। লিগ ওয়ানে তুলুজের বিপক্ষে গত শুক্রবার ৩-১ গোলের জয়ের পর আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে মাঠে নামবে উসমান দেম্বেলেরা। কৌশলী উইঙ্গারদের মাধ্যমে মূলত লিভারপুলের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিতে চাইবে পিএসজি। বাম প্রান্ত থেকে আক্রমণে হুমকি সৃষ্টি করবেন প্রতিযোগিতায় ১১টি গোলে অবদান রাখা খভিচা কভারাতসখেলিয়া। অন্য প্রান্তে একই ভূমিকা পালন করবেন দেজির দুয়ে। আর প্রতিপক্ষের জন্য এক ধারাবাহিক হুমকি হিসেবে রয়েছেন দেম্বেলে। রয়েছেন ভিতিনহা। যিনি রক্ষণাত্মক মিডফিল্ড থেকে আক্রমণে বাড়তি শক্তি জোগান।
অপরদিকে ইংলিশ ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরের টুর্নামেন্ট এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ৪-০ ব্যবধানে হেরে রীতিমতো বিধ্বস্ত লিভারপুল। টানা ৩টি অ্যাওয়ে পরাজয়ের মুখ দেখেছে অ্যানফিল্ডের দলটি। প্রতিটি ম্যাচেই ফুটে উঠেছে রক্ষণের দুর্বলতা। আজ লিগে ম্যাচটি হবে পিএসজির আক্রমণভাগ বনাম লিভারপুলের ভঙ্গুর রক্ষণের। এই ম্যাচে অল রেডরা ঘুরে দাঁড়াতে হলে অ্যাটাকিং ফুটবল ফিরিয়ে আনতে হবে। লিভারপুলের আক্রমণভাগের প্রধান শক্তি মোহাম্মদ সালাহ ও ডমিনিক সোবোসলাই। এই জুটি বড় সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারেন এই প্রতিযোগিতায় প্রতি ম্যাচে গড়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ সংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ পাস দেয়া ফ্লোরিয়ান উইর্টজও। তবে ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত লিভারপুলের বিপক্ষে চারবার সাক্ষাতে দু’টি করে জয় ভাগ করে নিয়েছে দুই দল। এবার পঞ্চমবারের দেখায় এগিয়ে যাওয়ার পালা দুই দলেরই।
দুই স্প্যানিশ জায়ান্টের লড়াই
ক্যাম্প ন্যূতে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও আকর্ষণীয় ম্যাচে অপেক্ষা করছে বার্সেলোনার আক্রমণাত্মক শৈলী ও অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের জমাট রক্ষণের লড়াই। লা লিগায় অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচ হিসেবে স্বীকৃত পাওয়া এই দুই দলের লড়াইকে বলা হয় “পার্টিদাজো”। তবে বর্তমানে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে হ্যান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনা। নিজেদের মাঠে ফেবারিট হিসেবে নামবে তারা। আর লিগে সবশেষ দেখাও দিয়েগো সিমিওনের দলকে মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে আরো বেশি উজ্জীবিত টেবিল টপাররা। আক্রমণে গতি ও দক্ষতা অ্যাথলেটিকোর রক্ষণভাগে বড় চাপ সৃষ্টি করবে তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল।
সব প্রতিযোগিতা মিলে ২৫১ বার দল দু’টি মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে বার্সেলোনা ১১৪ বার ও ৭৯ বার জিতেছে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। আর ৫৭টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ক্যাম্প ন্যু’র দলটির জন্য এক বড় ‘শত্রু’ অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। যারা ২০১৩/১৪ ও ২০১৫/১৬ মৌসুমে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে সরাসরি বিদায় করে দিয়েছিল বার্সেলোনাকে। এই ম্যাচে দলের আক্রমণভাগে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান গোল স্কোরার জুলিয়ান আলভারেজ। আর দলের দৃঢ় রক্ষণভাগই জয়ের মূলমন্ত্র হতে পারে অ্যাথলেটিকোর।