ময়মনসিংহে ৮ দলের মহাসমাবেশ
দেশে ইসলামবিরোধী কোনো আইন চলবে না : মুজিবুর রহমান
Printed Edition
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে সচিবালয়সহ সব প্রতিষ্ঠান কেবল আল্লাহর আইন দ্বারা পরিচালিত হবে। দেশে ইসলামবিরোধী কোনো আইন চলবে না।
বাংলাদেশের সব দল ইসলামের পতাকাতলে আসবে আশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন ২০১৪, ১৮ এবং ২৪ স্টাইলের মতো নিবার্চন আমরা চাই না। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টাকে তাদের পাঁচ দফা দাবি মেনে নেয়ার আহবান জানান।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়মনসিংহ নগরের ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ মাঠে নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি, জুলাই গণহত্যায় অভিযুক্তদের দ্রুতবিচার কার্যকর এবং নির্বাচনের আগে গণভোটসহ পাঁচ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে আট দলের বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলার উপজেলা, মহল্লা ও গ্রামাঞ্চল থেকে মিছিল এসে জমায়েত হয় সার্কিট হাউজ মাঠে। পুরো এলাকা পরিণত হয় স্লেøাগান, তাকবির ও ইসলামী চেতনার এক উৎসবে।
সমাবেশকে ঘিরে পুরো মাঠ এবং আশপাশের এলাকাজুড়ে ছিল বাড়তি পুলিশ মোতায়েন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক বিভাগ বিশেষ রুট ম্যাপও প্রস্তুত করে। তবে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
সমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক হযরত মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ হাদী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদেক হাক্কানী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব হযরত মাওলানা মূসা বিন ইজহার প্রমুখ।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, আমাদের আট দল ইসলামী আইনের পক্ষে। এ আট দলকে দেশের ৯০ ভাগ মুসলমানের দলে পরিণত করতে চাই। বাংলাদেশের সব ইসলামী দল ইসলামের পতাকার নিচে সমবেত হবে ইনশাল্লাহ। আমরা দরজা উন্মুক্ত করে দিয়েছি। বিএনপিকেও বলছি আপনারাও আসুন, আল্লাহকে এক বলে মানুন। কিন্তু দুঃখ হয় যখন তারা বলে, তারা শরীয়তের আইনে বিশ্বাস করে না। কথাটা তারা জেনে বলছে, নাকি না জেনে বলছে এটা এখনো আমার কাছে পরিষ্কার নয়।
সমাবেশে তিনি আরো বলেন, ৫৪ বছর আমরা শান্তি পাইনি। আমরা দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। মানুষ যখন আল্লাহর আইনে সম্পূর্ণ আনুগত্য করবে, তখনই শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে। কোরআন ও সুন্নাহর আইন বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করতে আট দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
তিনি দেশের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ১৯৭১ সালের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল অত্যন্ত ভালো। কিন্তু দুর্ভাগ্য, যারা নেতৃত্ব দিয়েছিল, তারা সেই উদ্দেশ্য সফল করতে পারেনি। ফলে প্রথম স্বাধীনতা ব্যর্থতায় পরিণত হয়েছে। দ্বিতীয় স্বাধীনতায় আবু সাঈদ-মুগ্ধ জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছে যে, প্রথম স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়েছে। তারা জীবন দিয়ে দ্বিতীয় স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে। সামনে আদর্শিক লড়াই হবে - এ দেশে মানুষের তৈরি মতবাদ, জাতীয়তাবাদ চলবে না। কোরআন-সুন্নাহর আইন চালু হবে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই তার পরীক্ষা হয়ে যাবে, ইনশাল্লাহ।
নিজেদের পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে অধ্যাপক মুজিব বলেন, আমরা পাঁচ দফা দাবি করেছি। এর একটি হলো যারা চুরি, ডাকাতি, হত্যা করেছে; তাদের বিচার করতে হবে। এখন কেউ কেউ বলছে তারা ক্ষমতায় গেলে সব মামলা তুলে দেবে। তাহলে অপরাধী ও অপরাধকে সমর্থনকারী কি আলাদা হলো, না এক হলো? পতিত শক্তি ও নতুন যারা আগামী দিনে নিজেদের দেশ পরিচালনার কথা বলছে- আমাদের আপত্তি নেই যদি জনগণ ভোট দেয়, কিন্তু ভোট না পেয়েই এসব কথা বলা শুরু করলে তো উদ্দেশ্য ভালো মনে হয় না। দ্বিতীয়ত, আমরা গণভোটের দাবি করেছি। গণভোট মানে জনগণের ভোট। যারা জনগণকে ভয় করে, তারা কি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে? গণভোট মানতে হবে, আর সেটা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হতে হবে। তাহলে জনগণ তার প্রকৃত মূল্য বুঝতে পারবে। আমরা কারও বিরুদ্ধে চরম কথা বলতে চাই না। মন্দের জবাব ভালো দিয়ে দিতে হবে- তাহলেই সংগ্রাম, মারামারি, জুলুম কমে যাবে।