ট্রাম্পের হুমকির মুখে শঙ্কায় গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দারা
Printed Edition
বিবিসি
গ্রিনল্যান্ড বরফে ঢাকা অল্প জনসংখ্যার দ্বীপ হলেও ভূরাজনীতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক ভূখণ্ড। দ্বীপটি বহুদিন ধরেই শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর নজরে থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আমলে নতুন করে বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
ডেনমার্কের অংশ হিসেবে থাকা গ্রিনল্যান্ড কিনে নেয়ার ট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে হোয়াইট হাউজের ‘সক্রিয়’ আলোচনার খবর এসেছে। আগামী সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের সাথে দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় বসছেন। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই দ্বীপটি তার ‘দখলে’ থাকা প্রয়োজন। ট্রাম্প এর আগে প্রয়োজনে দ্বীপটি জোর করে দখল করে নেওয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। আর এখন ভেনিজুয়েলায় অতিসম্প্রতি ট্রাম্প সামরিক অভিযান চালিয়ে যেভাবে দেশটির প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে গিয়ে বিচারের মুখে দাঁড় করিয়েছেন, তাতে গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক আরো বেড়েছে। এমন কিছু গ্রিনল্যান্ডেও ঘটে কি না- তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা। গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাজ্যের তুলনায় ৯ গুণ বড়। তবে এর জনসংখ্যা মাত্র ৫৭ হাজার। এই দ্বীপ খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ এবং কৌশলগত অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রিনল্যান্ডবাসীরা বলছে, তাদের এই আর্কটিক দ্বীপটিতে তারা শান্তিতে বাস করতে চায় মাত্র। অন্য সব কিছু থেকে দূরে থাকতে চায় তারা। আর বেশির ভাগেরই বক্তব্য হলো, তারা আমেরিকার নাগরিক হতে চায় না। কিন্তু ট্রাম্পের আস্ফালন এবং হুমকি-ধমকির মুখে গ্রিনল্যান্ডের অনেকের মধ্যেই এখন ভয় কাজ করছে এবং অনেকেই বিষন্ন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, ‘ভেনিজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপ দেখার পর আমি এখন ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিতে মৃত্যুভয়ে আছি।’