শ্রীলঙ্কায় প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের চ্যালেঞ্জ

জসিম উদ্দিন রানা
Printed Edition

বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম ম্যাচে হারের পর মাত্র একবার ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের সিরিজ জিতেছে টাইগাররা। শ্রীলঙ্কার মাটিতে কখনো ওয়ানডে সিরিজ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। তবে ২০১৩ এবং ২০১৭ সালে দু’বার লঙ্কানদের মাটিতে তিন ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করতে পারে টাইগাররা। ওই দুই সিরিজের দু’টি ম্যাচ বৃষ্টিতে পণ্ড হয়েছিল। সর্বশেষ ২০১৯ সালে শ্রীলঙ্কার মাটিতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল টাইগাররা। এবার তাদের মাটিতে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামছে টাইগাররা। আজ পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল ৩টায়। সরাসরি দেখাবে টি স্পোট্র্স।

শ্রীলঙ্কার কাছে প্রথম ম্যাচে ৭৭ রানের হার দিয়ে সিরিজ শুরু করে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং ধসে ২৬ বলে ৫ রানের মধ্যে ৭ উইকেট হারিয়েছিল টাইগাররা। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় মিরাজ-মোস্তাফিজরা। ব্যাট হাতে ভালো লড়াইয়ের পর তানভীরের ৫ উইকেট প্রাপ্তিতে ১৬ রানের দারুণ জয়ে সিরিজে ১-১ সমতায় ফেরে টাইগাররা। বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, ‘আমরা সেদিন (প্রথম ম্যাচে) যেভাবে হেরেছি সেটি মেনে নিতে পারিনি। কিন্তু মনোবল হারাইনি। আমরা জানতাম, সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে পারব। অবশ্যই চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো সিরিজ জয় এবং আমরা সেই লক্ষ্য পূরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

এবার হোয়াইটওয়াশ নিয়ে চিন্তা নেই বাংলাদেশের। তবে ইতিহাস গড়ার সুযোগ রয়েছে টাইগারদের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ দুই সিরিজ থেকে প্রেরণা নিতে পারে বাংলাদেশ। ২০২১ এবং ২০২৪ সালে ঘরের মাঠে লঙ্কানদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওই দুই সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল টাইগাররা। সব মিলিয়ে ১০টি দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। এর মধ্যে বাংলাদেশ দু’টি এবং শ্রীলঙ্কা ছয়টি সিরিজ জিতে। দুটো সিরিজ ড্র হয়। এখন পর্যন্ত সিংহদের বিপক্ষে ৫৯ ম্যাচ খেলে মাত্র ১৩টি জিতেছে টাইগাররা। ৪৪টিতে হার ও দু’টি ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়।

পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচ খেলেছে একটিতে জিতেছে একটিতে হেরেছে বাংলাদেশ। ২০১৩ সালের সিরিজের শেষ ম্যাচ বৃষ্টি আইনে ৩ উইকেটে জিতেছিল টাইগাররা। ওই জয়ে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হয়েছিল। আর ২০২৩ সালে এশিয়া কাপের ম্যাচে ১৬৪ রানে অলআউট হয়ে ৫ উইকেটে হেরেছিল টাইগাররা।

পরিসংখ্যান পক্ষে না থাকলেও সিরিজ জয়ের ব্যাপারে প্রত্যয়ী অধিনায়ক মিরাজ। কারণ প্রথম ম্যাচে বাজেভাবে হারের পর, দ্বিতীয় ওয়ানডের জয় টাইগারদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তৃতীয় ম্যাচের একাদশে ফিরতে পারেন আগের ম্যাচে বিশ্রামে থাকা পেসার তাসকিন আহমেদ। এজন্য বাদ পড়তে পারেন পেসার হাসান মাহমুদ। দ্বিতীয় ম্যাচের শুরুতে নিজের সেরাটা দিতে না পারলেও, ডেথ ওভারে দারুণ বোলিং করেন মোস্তাফিজুর রহমান। ডেথ ওভারে ক্রমেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা এবং লঙ্কানদের জয়ের কাছে নিয়ে যাওয়া ব্যাটার জানিথ লিয়ানাগেকে আউট করে বাংলাদেশকে জয়ের পথ দেখান ফিজ। পেশিতে টান লাগায় নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে উদ্বেগ ছিল বাংলাদেশ শিবিরে। কিন্তু জানা গেছে, শান্ত ফিট আছেন এবং দলের সাথে অনুশীলন করেছেন। তবে একাদশে থাকবেন কি না সেটি ম্যাচের আগেই জানা যাবে।

আরেক পেসার তানজিম হাসান সাকিব ব্যাট-বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন। আট নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে ২১ বলে ৩৩ রানের দায়িত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে আড়াই শ’ রানে কাছে নিয়ে যান। পাশাপাশি বল হাতে ৩৪ রানে ২ উইকেট নেন তানজিম। তাকে নিয়ে মিরাজের প্রত্যাশা, ‘শেষ দিকে তানজিমের ব্যাটিং ছিল অসাধারণ। তার রানগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ২২০ এবং ২৫০ রানের পুঁজির মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস দলের সবার মধ্যে ছিল। দ্বিতীয় ম্যাচের ধারা ধরে রাখতে পারলে ধরা দিতে পারে প্রথম সিরিজ জয়। আমরা প্রথম সিরিজ জয়ে নিজেদের দিকেই ফোকাস করছি।’

বাংলাদেশ দল : মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, মোহাম্মদ নাঈম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তৌহিদ হৃদয়, লিটন দাস, জাকের আলী, শামীম পাটোয়ারী, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও হাসান মাহমুদ।

শ্রীলঙ্কা দল : চারিথ আসালাঙ্কা (অধিনায়ক), পাথুম নিশাঙ্কা, আভিস্কা ফার্নান্দো, নিশান মাধুস্কা, কুশল মেন্ডিস, সাদিরা সামারাবিক্রমা, কামিন্দু মেন্ডিস, জেনিথ লিয়ানাগে, দুনিথ ওয়েল্লালাগে, হাসারাঙ্গা ডি সিলভা, মহেশ থিকশানা, জেফরি ভান্ডারসে, মিলান রত্নায়েক (ফিট থাকা সাপেক্ষে), দিলশান মাধুশঙ্কা, আসিথা ফার্নান্দো ও ইশান মালিঙ্গা।