গোয়ালন্দে ডিজিটাল ওয়ে ব্রিজ অচল হাতে লেখা স্লিপে ওজন নির্ধারণ

Printed Edition

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের ডিজিটাল ‘ওয়ে ব্রিজ স্কেলের গার্ডার’ ভেঙে যাওয়ায় গত দুই দিন ধরে পণ্যবাহী ট্রাকের ওজন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে ট্রাকচালকদের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি সঠিক ওজন নির্ধারণে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, প্রকৃত ওজন যাচাই না হওয়ায় এতে সরকারি রাজস্ব আদায়ে প্রভাব পড়ছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্র জানায়, গত ২০ জুলাই সকালে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটসংলগ্ন গোয়ালন্দ উপজেলা হাসপাতালের পাশের রোড ভেহিকেল ডিজিটাল ওয়ে ব্রিজ স্কেলের প্ল্যাটফর্মের একটি গার্ডার ভেঙে যায়। এরপর থেকেই স্কেলটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহন রুট। প্রতিদিন এই নৌপথ দিয়ে বিপুলসংখ্যক মালবাহী ট্রাক পারাপার হয়। নিয়ম অনুযায়ী তিন টনের বেশি ওজনের প্রতিটি ট্রাক ফেরিতে ওঠার আগে ডিজিটাল ওয়ে ব্রিজে ওজন করা বাধ্যতামূলক। প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০টি ট্রাক এই স্কেলের মাধ্যমে ওজন করা হয়।

বর্তমানে ডিজিটাল স্কেল অচল থাকায় ট্রাকের প্রকৃত ওজন নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চালানপত্রে উল্লেখিত তথ্যের ভিত্তিতে আনুমানিক ওজন নির্ধারণ করে হাতে লেখা স্লিপ দেয়া হচ্ছে। এতে প্রকৃত ওজন ও স্লিপে উল্লেখিত ওজনের মধ্যে পার্থক্য থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, স্কেলের প্ল্যাটফর্মের নিচের অংশে দীর্ঘ দিন ধরেই সংস্কারের প্রয়োজন ছিল। ২০১৬ সালে ওয়ে ব্রিজটি চালু হওয়ার পর বড় ধরনের কোনো সংস্কার করা হয়নি। একাধিকবার মেরামতের প্রয়োজন দেখা দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। গার্ডার ভেঙে যাওয়ার পর বর্তমানে প্রকৌশলীরা ওয়েল্ডিংসহ প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ করছেন।

গত মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিন দেখা যায়, স্কেলটির প্ল্যাটফর্মে মেরামতের কাজ চলছে। এ সময় ট্রাকগুলোকে ডিজিটাল স্কেলে ওজন না করে চালান অনুযায়ী হাতে লেখা স্লিপ দেয়া হচ্ছে। এতে চালকদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দেয়। ট্রাকচালক সলেমান শেখ বলেন, প্রকৃত ওজন না মেপে আনুমানিক ওজনের স্লিপ দেয়া হয়েছে।