ইরান ও সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠক
সম্পর্ক জোরদারে আন্তঃসংসদীয় টিম গঠনের আহ্বান স্পিকারের
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের সাথে ইরান ও সুইজারল্যান্ডের সংসদীয় সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করতে পৃথক আন্তঃসংসদীয় টিম গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে দুই দেশের রাষ্ট্রদূতের সাথে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আহ্বান জানান। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সাংস্কৃতিক বিনিময়, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং সংসদীয় কূটনীতি সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
গতকাল সকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রাহিমী জাহানাবাদি স্পিকারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় স্পিকার বলেন, দুই দেশের সংসদের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনের জন্য সংসদীয় টিম গঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি ইরানিদের বীরের জাতি হিসেবে উল্লেখ করে যুদ্ধকালীন সময়ে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাবের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেন। স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হলে উভয় দেশই উপকৃত হবে।
বৈঠকে ইরানের রাষ্ট্রদূত ঢাকা-তেহরান সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে স্পিকারের সহযোগিতা কামনা করেন। একই সাথে ইরানের বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা গ্রহণে বাংলাদেশীদের উৎসাহিত করার অনুরোধ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিমাণ এক বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব হবে।
রাষ্ট্রদূত ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য, ইউরিয়া সার ও খাদ্যসামগ্রী সাশ্রয়ীমূল্যে বাংলাদেশে রফতানির প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিশ্বমানের তৈরী পোশাক আমদানিতে তেহরানের আগ্রহের বিষয়টিও স্পিকারকে অবহিত করেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব পাস করায় রাষ্ট্রদূত স্পিকারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধি, শুল্কমুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নবায়ন এবং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে সহযোগিতা কামনা করেন। সংসদীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করার ক্ষেত্রেও স্পিকারের সহযোগিতা চান তিনি।
একই দিনে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেলিংও জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে তিনি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বর্তমান নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার ও শক্তিশালী বিরোধী দলের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে কার্যকর করে তুলতে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
স্পিকার বলেন, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী এই সংসদ গণমানুষের আকাক্সক্ষা ধারণ করে জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে তার মেয়াদ পূর্ণ করবে। সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউরোপীয় অংশীদার রাষ্ট্র হিসেবে সুইজারল্যান্ডের ভূমিকার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।
বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো শক্তিশালী করতে সুইজারল্যান্ডকে পাশে থাকার আহ্বান জানান স্পিকার। একই সাথে দুই দেশের মধ্যে আন্তঃসংসদীয় টিম গঠন করে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রস্তাব দেন তিনি।
স্পিকার বাংলাদেশে উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মাধ্যমে বাংলাদেশ-সুইজারল্যান্ড সংসদীয় কার্যক্রম জোরদার এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করতে সুইস সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
জবাবে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে মানবিক সহায়তা, শিক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা এবং বেসরকারি উন্নয়ন খাতে সুইজারল্যান্ডের চলমান সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। একই সাথে সংসদীয় অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ড উভয় দেশই উপকৃত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।