ময়ূর ও কাক
Printed Edition
মো: রাজিব হুমায়ুন
এক ছিল কাক। নাম তার কালু। দেখতে কালো। কিন্তু কালু ছিল খুব চতুর আর পরিষ্কার মনের পাখি। একদিন সকালবেলা কালু উড়তে উড়তে গিয়ে বসল গ্রামের মাঠের এক পুরনো আমগাছের ডালে। হঠাৎ তার চোখে পড়ল- এক রাজপাখি রঙিন পাখা মেলে হাঁটছে কড়কড় করে। সে আর কেউ নয়- এক সুন্দর ময়ূর! ঝকঝকে নীল রঙ, লম্বা পেখম, যেন পাখিদের রাজা!কালু কাক চোখ বড় করে তাকিয়ে রইল। আর নিজের গায়ের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘উফ! আমি তো পুরাই কালো! এই ময়ূরের পাশে আমি যেন বাঁশঝাড়ের পাশে কুঁচকে থাকা কলাপাতার মতো!’
ময়ূর হালকা হাঁক ছাড়ল, ‘কী রে ভাই, এতক্ষণ তাকিয়ে আছো কেন?’ কালু হা করে বলল, ‘তোমার মতো যদি দেখতে হতাম! তাহলে পাখিদের মধ্যে আমিও হিরো হতাম!’ ময়ূর হেসে বলল, ‘দেখো, সুন্দর হওয়া ভালো, তবে সেটা সব কিছু নয়।’ কালু চিন্তিত হয়ে বলল, ‘তুমি সুন্দর বলেই তা বলতে পারো। কিন্তু আমি বললে তো সবাই বলে, ও কাক, শুধু কা কা করিস!’ ঠিক তখনই পাশের ঝোপ থেকে একটা বিড়াল লাফিয়ে এসে পড়ল! বাচ্চা হাঁসের পিছে ছুটছে সে।
সব পাখি উড়ে পালাল, ময়ূর তো ডানা মেলেও খুব উঁচুতে উঠতে পারে না। সে দাঁড়িয়ে রইল থতমত খেয়ে। ঠিক তখন কালু কাক ডেকে উঠল, ‘কা কা কা কা কা!’ একেবারে বিকট শব্দে পুরো গ্রাম মাথায় তুলল! মানুষজন দৌড়ে এলো। বিড়াল পালিয়ে গেল। হাঁসের বাচ্চা বেঁচে গেল। ময়ূর তখন কালুর দিকে তাকিয়ে বলল,
‘তুমি না থাকলে আজ তো আমি নিজেই ঝাঁটার মতো পড়ে থাকতাম!’
কালু হেসে বলল, ‘আমার রঙ কালো হতে পারে, কিন্তু কাজে তো কালো-সাদা নেই!’ তখন ময়ূর গম্ভীর হয়ে বলল, ‘তুমি আসলেই রাজা। বাহ্যিক রঙ নয়, মন আর কাজে যে এগিয়ে, সেই-ই সত্যিকারের সুন্দর।’ সেই থেকে গ্রামের সব পাখি কালুকে ডাকে ‘কালু ভাই’ বলে। আর ময়ূর নিজে ডাকে, ‘বন্ধু’ বলে।হ