সিইসিকে লিগ্যাল নোটিশ
চব্বিশের ডামি প্রার্থীদের নির্বাচনে অবৈধ ঘোষণা করতে হবে
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনকে আইনি নোটিশ দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। আওয়ামী লীগ সরকারের সর্বশেষ গত ২০২৪ সালের তথাকথিত ডামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অবৈধ নির্বাচনকে বৈধতা প্রদানকারী প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের অবৈধ ঘোষণা করতে হবে। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা ও তারা যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে এ জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন তারা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে অ্যাডভোকেট মো: ইশতিয়াক হোসেন এই লিগ্যাল নোটিশটি প্রদান করেন। আর সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশীদ বলেন, আমরা দুঃখের সাথে দেখছি পলাতক বাহিনী বিদেশের মাটিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমাদের নেতৃত্ব স্থানীয় যারা রয়েছেন যারা জুলাইকে ধারণ করেন যারা জুলাইকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান যারা বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলেন তাদেরকে হত্যার নীল নকশা করা হচ্ছে। এখন আমরা এই জায়গাটা থেকে আসলে আর বিন্দুমাত্র ছাড় দেবো না। আমরা কঠোর থেকে কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবো।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গতকাল বুধবার বিকেলে এই নোটিশ দিয়ে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সাথে বৈঠক করেন। এ সময় ইসি সচিবও উপস্থিত। ছাত্রদের পক্ষে সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশীদের নেতৃত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন- মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট মো: ইশতিয়াক হোসেন। বৈঠক শেষে তারা গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন।
লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি প্রশ্নবিদ্ধ, অংশগ্রহণহীন ও গণতান্ত্রিক মানদণ্ডবর্জিত নির্বাচন হিসেবে দেশ-বিদেশে সমালোচিত হয়েছে। ওই নির্বাচনে প্রকৃত রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভোটারদের কার্যকর অংশগ্রহণ এবং সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক চর্চার মৌলিক নীতিমালা লঙ্ঘিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যেসব ব্যক্তি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন তারা রাজনৈতিক দলভুক্ত হোন বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হোন (আওয়ামী লীগ বা অন্য যেকোনো পরিচয়ে, তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে একটি অবৈধ ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনকে বৈধতা প্রদান করেছেন।
নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন ও তত্ত্বাবধান করা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু ২০২৪ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালিত হয়নি। এমতাবস্থায় ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষুণœ করার সাথে জড়িত থাকায় তাদের আগামী ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করা সাংবিধানিক ও নৈতিকভাবে অপরিহার্য।
এই নোটিশের মাধ্যমে সাত দিনের মধ্যে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব প্রার্থীর ভূমিকা তদন্ত করা, যেসব প্রার্থী অবৈধ ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনকে বৈধতা প্রদানে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং এ বিষয়ে একটি স্পষ্ট নীতিগত ও আইনগত সিদ্ধান্ত জনসমক্ষে প্রকাশ করার জন্য বলা হয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি বলেন, দাবি মানা না হলে এবং উল্লেখিত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর ও আইনসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়, তবে বাধ্য হয়ে বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করবেন। যার জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী থাকবে। এমনকি তারা রাজপথে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, হাদি ভাইয়ের ওপর এই হামলার ঘটনার পর নির্বাচনের যে পরিস্থিতি এবং সেই সাথে বাংলাদেশের সামগ্রিকভাবে যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রয়েছে সেটি সন্দেহজনক। আমরা প্রত্যেকেই যারা জুলাই বিপ্লবের সম্মুখ সারিতে ছিলাম এবং যারাই জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণ করেছিলাম প্রত্যেকেই আসলে একটি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণেই দাঁড়িয়ে রয়েছি। তাই এ ক্ষেত্রে আমাদের যারা এই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এতদিন পরেও দাঁড় করাচ্ছে; আমরা যদি একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাই তাহলে হয়তোবা যারা এই গণহত্যাকারী তারা এমনিতেই মিলিয়ে যাবে। বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাদের আসলে এই ব্যাপারগুলো সুরাহা করা হবে।