হঠকারিতা নয়, ধৈর্য ও সংযমের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

আজ বিশেষ দোয়া, শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক, শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে, হাদির পরিবারের দায়িত্ব নেবে সরকার

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর পর সবাইকে ধৈর্য ও সংযমের আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সব অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন। অপপ্রচার ও গুজবে কান না দিয়ে যেকোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে তিনি শোককে শক্তিতে পরিণত করার আহ্বান জানান।

গতকাল রাতে সিঙ্গাপুরে হাদির মৃত্যুর খবর আসার পর জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ওসমান হাদির স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামের এই অমর সৈনিককে মহান রাব্বুল আলামিন শহীদ হিসেবে কবুল করুন- এই দোয়া করি।’

হাদি মারা যাওয়ার খবর আসার ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে জাতির উদ্দেশে জরুরি ভাষণ দিতে আসেন প্রধান উপদেষ্টা।

হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘তার প্রয়াণ দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিসরে এক অপূরণীয় ক্ষতি।’ তার শোকসন্তপ্ত স্ত্রী, পরিবারের সদস্য, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি এ হত্যাকাণ্ডকে নৃশংস হিসেবে তুলে ধরেন। বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সব অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো হবে না।’

হাদি শুধু প্রতিবাদ নয়, দেশপ্রেম, ধৈর্য ও দৃঢ়তার অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন বলে তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা সবার প্রতি সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান। বলেন, ‘দেশের সব নাগরিকের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি- আপনারা ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখুন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পেশাদারিত্বের সাথে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। রাষ্ট্র আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের ফাঁদে পা না দিয়ে আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে অবিচল পদক্ষেপে এগিয়ে যাই। এটাই হবে শহীদ হাদির প্রতি আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধা।’