আরো একটি সফল কিডনি প্রতিস্থাপন মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে
আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ও একজন ডাক্তার
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
আরো একটি সফল কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিডনি গ্রহীতা ও দাতা উভয়েই সুস্থ আছেন এবং তারা গতকাল বুধবার বাড়ি ফিরে গেছেন। ১৯৮৮ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানে ৬১৬টি কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়। প্রতি সপ্তাহে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগে একটি করে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। ২০২৪ সালে কিছু দিন বন্ধ ছিল সার্জন না থাকায়। পরে আবার শুরু হলেও ২০২৫ সালের প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত নতুন আইনের কারণে প্রতিস্থাপন বন্ধ ছিল নতুন আইনকে পুরোপুরি অনুসরণ করার উদ্দেশ্যে। এরপর পুরোদমে প্রতি সপ্তাহে একটি করে প্রতিস্থাপনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি ও নেফ্রোলজি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।
গতকাল বুধবার যে কিডনি প্রহীতা ও দাতা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিলে গেলেন তারা এসেছেন নেত্রকোনা থেকে। এক সময়ের আইনজীবী এখনকার ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের অনুরোধে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি। এরপর ২৮ জানুয়ারি মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্তে সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে গত ২ মার্চ কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়।
কিডনি দিতে এগিয়ে এসেছেন গ্রহীতার মা (কিডনি গ্রহীতা ও দাতার নাম প্রকাশ করা হয়নি)। কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হলেও প্রতিস্থাপনের যে খরচ তা বহন করার ক্ষমতা এই রোগীর ছিল না। ফলে খরচের বিষয়টি প্রকট হয়ে সামনে এলে সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের একজন অধ্যাপক এগিয়ে এসেছেন প্রয়োজনীয় খরচ দিতে। এই দু’জনের অর্থে কিডনি গ্রহীতা ও দাতার জন্য প্রযোজনীয় খরচ মেটানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত একটি সফল প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়। এর আগে এই রোগী বেঁচে ছিলেন ডায়ালাইসিস করে। দাতা ও গ্রহীতাকে বিদায় জানাতে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত ছিলেন।
নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো: নজরুল ইসলামের অধীনে ভর্তি এই রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়। দাতা (ডোনার) থেকে কিডনি অপসারণ দলের নেতৃত্বে ছিলেন ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. তৌহিদ মো: সাইফুল ইসলাম দিপু। অন্যদিকে, গ্রহীতার শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপন দলের নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক একেএম খুরশিদুল আলম ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো: রফিকুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে অধ্যাপক ডা. তৌহিদ মো: সাইফুল ইসলাম দিপু বলেন, প্রতি সপ্তাহেই একটি করে কিডনি প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করা হয় কিন্তু অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। কারণ, অনেক প্রতিস্থাপনের রোগীকে অপারেশনের টেবিল থেকে ফেরত নিয়ে আসতে হয় শারীরিকভাবে ফিট না থাকায়। হঠাৎ করে কিডনি গ্রহীতা অথবা দাতার নতুন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়ায় এমন অবস্থা হয়ে থাকে। অনেক লজিস্টিক লাগে, কিডনি প্রতিস্থাপনের আগে কমপক্ষে ১০টি ডিসিপ্লিনের ডাক্তার সমন্বয়ে বোর্ড করা এবং অপারেশন-পরবর্তী প্রতিস্থাপন ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট থাকতে হয়। সে কারণে, সপ্তাহে একটির বেশি প্রতিস্থাপন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে করা যায় না।
এ ব্যাপারে ইউরোলজি বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, এটা একটি একাডেমিক বিশ্ববিদ্যালয়, এখানে রোগী চিকিৎসাও হয় আবার একই সাথে চিকিৎসকদের প্রতীক্ষিতও করা হয়। এসব কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সপ্তাহে একটির বেশি কিডনি প্রতিস্থাপন করা যায় না। তবে খুবই কম মূল্যে এখানে প্রতিস্থাপন করা হয়। বিদেশে গেলে অনেক টাকা খরচ হলেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই লাখ টাকায় কিডনি প্রতিস্থাপন হচ্ছে।
উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে ডা. মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশে আইনি জটিলতার কারণে প্রয়োজনের তুলনায় কিডনি প্রতিস্থাপনের সংখ্যা এখনো অনেক কম। বাংলাদেশের চিকিৎসকরা অত্যন্ত দক্ষ এবং তারা বিভিন্ন জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সক্ষম। আর্থিক সহায়তা নিয়ে সমাজের দানশীলরা এগিয়ে এলে আরো অনেক কিডনি বিকল রোগী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।