গাজায় ত্রাণসামগ্রী ঢোকাতে পারছে না সেভ দ্য চিলড্রেন
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
- গাজায় ধসে পড়া ভবন থেকে ২ শিশুসহ ৬ ফিলিস্তিনি উদ্ধার
- পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে ইসরাইলের সম্প্রসারণ নীতি
- শীতে ধসে পড়ছে গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত বাড়িঘর
ব্রিটেনভিত্তিক মানবিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, ইসরাইল মার্চ মাসে গাজায় সম্পূর্ণ অবরোধ আরোপ করার পর থেকে তারা নিজেদের ত্রাণসামগ্রী সেখানে পাঠাতে পারছে না। এ খবর জানিয়েছে আলজাজিরা।
১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইল এখনো ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। বিশেষ করে তাঁবু, কম্বল ও আশ্রয়সামগ্রী আটকে রাখা হয়েছে, যখন প্রবল ঝড়বৃষ্টিতে গাজার পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। জাতিসঙ্ঘের মাধ্যমে অল্প কিছু ত্রাণ ঢুকলেও তা গাজার মানুষের মৌলিক চাহিদার সামান্য অংশও পূরণ করতে পারছে না, বলে জানিয়েছেন সেভ দ্য চিলড্রেনের গাজা মিডিয়া ম্যানেজার শুরুক। নিরাপত্তার কারণে তার পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিরা এখন আশ্রয়ের জন্য মরিয়া হয়ে আছে। সংস্থাটি স্থানীয়ভাবে কিছু আশ্রয়সামগ্রী সংগ্রহ করে বিতরণ করেছে, তবে শুরুকের ভাষায় এটি ‘চাহিদার বিশাল সমুদ্রের এক ফোঁটা মাত্র’।
গাজায় ধসে পড়া ভবন থেকে ২ শিশুসহ ৬ ফিলিস্তিনি উদ্ধার : উত্তর গাজায় প্রবল ঝড়-বৃষ্টির কারণে একটি ভবনের ছাদ ধসে পড়লে দুই শিশুসহ ছয় ফিলিস্তিনিকে জীবিত উদ্ধার করেছে সিভিল ডিফেন্স। সংস্থাটি জানায়, গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে শাতি শরণার্থী শিবিরে তিনতলা একটি ভবনের উপরের ছাদ ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ছয়জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তারা সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা।
সোমবার থেকে গাজা উপত্যকা নতুন একটি আবহাওয়া বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। ভারী বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও ঝড়ের কারণে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে জীর্ণ তাঁবু বা বারবার ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে থাকা বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য এটি বড় হুমকি। মঙ্গলবার গাজা সিটিতে বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন আংশিক ধসে পড়ে এক ফিলিস্তিনি নিহত এবং কয়েকজন আহত হন।
পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে ইসলাইলের সম্প্রসারণ নীতি : আলজাজিরা জানায়, দখলকৃত পশ্চিমতীরে ইসরাইলের নতুন বসতি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য উদ্বেগ আরো বাড়িয়েছে। ইসরাইল সরকার সম্প্রতি ১৯টি তথাকথিত বসতি স্থাপনকে স্বাধীন বসতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে । চলতি বছরে এটি তৃতীয় দফার এমন সিদ্ধান্ত। ইসরাইল সরকার বসতি সম্প্রসারণ ও দখলদারিত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে। এর আগে এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বলেন, ‘আমরা মাঠপর্যায়ে বাস্তব সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করছি, যাতে পশ্চিমতীরে যেকোনো আরব রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা বন্ধ করা যায়।’
বসতিগুলো আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ। সাধারণত কিছু বসতি স্থাপনকারী সরকারি অনুমোদন ছাড়াই এগুলো গড়ে তোলে। তবে ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এসব বসতি স্থাপনকারী সেনাবাহিনীর সুরক্ষা পায়। তারা বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সরকারি সেবাও ভোগ করে। এই স্থাপনাগুলোকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়ার ফলে নতুন সরকারি অর্থায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও আরো সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সাম্প্রতিক অনুমোদিত বসতিগুলোর বেশির ভাগই পশ্চিমতীরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। এই অঞ্চলটি আগে তুলনামূলকভাবে বসতি কার্যক্রম থেকে মুক্ত ছিল।
এ ছাড়া ২০০৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল শ্যারনের সরকার যে দু’টি স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছিল, সেগুলোকেও আবার বৈধতা দেয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলো প্রশাসনিক মনে হলেও বাস্তবে তা কৌশলগত। এগুলো আরো সহিংস ও আদর্শবাদী বসতি স্থাপনকারীদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করছে। ফিলিস্তিনি জমি দখল বাড়ছে।
ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলাও আরো বেপরোয়া হচ্ছে : ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থা বি’তসেলেম জানায়, গত দুই বছরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার কারণে পশ্চিমতীরের ৪৪টি ফিলিস্তিনি জনপদ জোরপূর্বক খালি হয়ে গেছে।এই হামলার মধ্যে ছিল অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, শারীরিক নির্যাতন ও গুলিবর্ষণ। এসব হামলায় ৩৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু। কোনো হামলাকারীকেই বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি। সংস্থাটি জানায়, এসব হামলা ইসরাইলি সেনাদের উপস্থিতিতেই ঘটেছে। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির দায়িত্ব নেয়ার পর এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ আরো দুর্বল হয়েছে । কেননা বেন-গভির নিজেও একজন বসতি স্থাপনকারী। জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সম্প্রতি এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি পশ্চিমতীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ ও রাষ্ট্রীয় মদদে সহিংসতার মাত্রাকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেন। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, সব বসতিই আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ। এসব বসতি ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র গঠনের অধিকার ধ্বংস করছে। গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি পশ্চিমতীর সংযুক্ত করতে দেবেন না। তবে কিভাবে তা ঠেকাবেন, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত বলেননি। ইসরাইল এসব বক্তব্যে নিরুৎসাহিত হয়নি। সরকার জমি দখল, সম্প্রসারণ ও সংযুক্তিকরণের নীতি চালিয়ে যাচ্ছে। একই সাথে গাজায় সহিংস অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। পশ্চিমতীরের তিনটি শরণার্থী শিবির থেকে ৩২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রায় এক বছর ধরে বাস্তুচ্যুত। নূর শামস, তুলকারেম ও জেনিন শিবিরে এখনো ইসরাইলি সেনাদের দখল চলছে। বাসিন্দাদের ফিরতে দেয়া হচ্ছে না। জাতিসঙ্ঘের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সেখানে এক হাজার ৪৬০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করা হয়েছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী পশ্চিমতীরে প্রায় এক হাজার গেট স্থাপন করেছে। এতে ফিলিস্তিনি জনপদগুলো কার্যত উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত হয়েছে। অর্থনীতি, সমাজ ও স্বাভাবিক জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জাতিসঙ্ঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা জানায়, ইসরাইলি নীতির কারণে ফিলিস্তিনিরা ৬৯ বছরের উন্নয়ন হারিয়েছে। ফিলিস্তিনি জিডিপি ২০১০ সালের পর্যায়ে নেমে গেছে। এই বাস্তবতায় ফিলিস্তিনিরা ঘর ছাড়ছে। আর ইসরাইল তার দখল আরো বিস্তৃত করছে।
শীতে ধসে পড়ছে গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত বাড়িঘর : শীতকালীন ঝড়ের মুখে গাজায় আবারো প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘বায়রন’-এর তাণ্ডবে গাজার মানবিক সঙ্কট আরো তীব্র আকার নেয়। ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসে বহু যুদ্ধবিধ্বস্ত বাড়িঘর ধসে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষ উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। অনেক জায়গায় দেয়াল ও ভবনের অংশ ভেঙে পাশের তাঁবুর ওপর পড়ে। এতে ঝুঁকি আরো বেড়েছে। গাজায় হাজার হাজার পরিবার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। যুদ্ধের সময় তাদের নিজস্ব বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। নিরাপদ বিকল্প আশ্রয়ের কোনো সুযোগ নেই। ভারী বৃষ্টিতে এসব দুর্বল কাঠামো মারাত্মক ঝুঁকিতে পরিণত হয়। একই সাথে প্লাবিত হয় হাজার হাজার তাঁবু।
আলজাজিরার এক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়িঘর ধসের কারণ শুধু বৃষ্টি নয়। দুই বছরের টানা বোমাবর্ষণে ভবনগুলোর কাঠামো মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইসরাইলের অবরোধের কারণে গাজায় কোনো নির্মাণসামগ্রী প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। ফলে মানুষ ঘর মেরামতের সুযোগ পাচ্ছে না।
সরাসরি হামলা, পার্শ্ববর্তী বিস্ফোরণ ও স্থল অভিযানে হাজার হাজার আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্তম্ভ ও ভিত্তিতে ফাটল ধরেছে। ভারবাহী দেয়াল আলাদা হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় ছাদ আংশিক ভেঙে পড়েছে। যাদের যাওয়ার জায়গা নেই, তারা বাধ্য হয়ে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ঘরেই থাকছেন। অনেক ক্ষেত্রে একটি ভবনে একাধিক পরিবার গাদাগাদি করে বসবাস করছে। এতে দুর্বল কাঠামোর ওপর আরো চাপ পড়ছে। বৃষ্টির পানি ফাটলের ভেতরে ঢুকে ভিত্তি আরো নরম করে দিচ্ছে। ভেজা মাটি নিচ থেকে সরে গিয়ে হঠাৎ ধসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অনেক বাস্তুচ্যুত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের পাশে বা ওপরেই তাঁবু খাটাচ্ছেন। এতে ঝড়ের সময় দেয়াল ও কংক্রিটের ব্লক পড়ে তাদের জীবন আরো বিপন্ন হচ্ছে। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানায়, গত সেপ্টেম্বরে ৯৩ শতাংশ তাঁবু বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। সংখ্যায় তা প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার। সাম্প্রতিক ঝড়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ধসে পড়েছে ১৩টি বাড়ি। ২৭ হাজার তাঁবু পানিতে ডুবে গেছে বা ভেসে গেছে। সিভিল ডিফেন্স ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের ধ্বংসস্তূপ বা ভেঙে পড়া তাঁবুর নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আরো অনেকে আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশু, নারী ও বৃদ্ধ রয়েছেন। একটি শিশু চরম ঠাণ্ডায় মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা।
ঘটনাগুলো ঘটেছে গাজা সিটি, উত্তর গাজা এবং মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে। নাসর মহল্লা, শাতি শরণার্থী শিবির ও তাল আল-হাওয়া এলাকায় একাধিক ভবন ধসে পড়ে। শাতি শিবিরে একটি দেয়াল ধসে একজন নিহত হন। ঝড় চলাকালে সিভিল ডিফেন্স দুই হাজার ৫০০টির বেশি জরুরি কল পায়। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, আরো নিম্নচাপ ও বৃষ্টিতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে। ইসরাইলের আরোপিত অবরোধের কারণে জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছে। ভারী যন্ত্রপাতি, উদ্ধার সরঞ্জাম, জ্বালানি ও চলাচলের উপযোগী রাস্তার ঘাটতি রয়েছে। কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত ঘর ছাড়ার আহ্বান জানালেও, বিকল্প আশ্রয় বা নিরাপদ তাঁবু দেয়ার সক্ষমতা নেই। কিছু এলাকায় শুধু কম্বল ও সীমিত ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। তা শীত ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থাকা মানুষের প্রয়োজন মেটাতে পারছে না।
পৌরসভাগুলো ড্রেনেজ বা প্রতিরোধমূলক কাজ করতে পারছে না। ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো ও সম্পদের অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাসিন্দাদের নিরাপদ থাকার বাস্তব কোনো উপায় নেই। নিরাপদ ঘর নেই। এ ছাড়াও তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর কারণে চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। জাতিসঙ্ঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ বলেছে, নির্বিঘেœ মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে দিলে এই দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব। সংস্থাটি জানায়, পানিতে ডুবে থাকা রাস্তা ও ভেজা তাঁবু স্বাস্থ্যজুঁকি আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও, ইসরাইলের বাধার কারণে গাজার পরিস্থিতির কোনো বাস্তব উন্নতি হয়নি।