ডিএনসিসিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা সুবিধা চালু
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) প্রথমবারের মতো পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা সুবিধা চালু করেছে। প্রথম পর্যায়ে দুই হাজার ৪৬৭ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে এ স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনা হয়েছে। গতকাল গুলশানে অবস্থিত ডিএনসিসি নগরভবনে স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এবিএম শামসুল আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ এজাজ বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করেন। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা থাকা উচিত। সরকারি সংস্থা হিসেবে আমাদের কর্মীদের স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনতে পেরে আমরা গর্বিত।’ তিনি আরো বলেন, ঢাকার আয়তন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও সে তুলনায় ডিএনসিসির জনবল কম। তাই নতুন নিয়োগের পাশাপাশি বিদ্যমান কর্মীদের নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে নিয়মিত কর্মীদের পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ের আরো পাঁচ হাজার কর্মী এবং মশকনিধন কর্মীদেরও এই স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে কমডোর এ বি এম শামসুল আলম বলেন, গত এক বছরে ডিএনসিসির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন উদ্যোগ হলো এই স্বাস্থ্যবীমা কার্যক্রম। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে ডিএনসিসি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এই স্বাস্থ্যবীমার আওতায় উপকারভোগীরা রাজধানীর চার শতাধিক বেসরকারি ক্লিনিকে ৫০ শতাংশ ছাড়ে চিকিৎসা সেবা পাবেন। এ ছাড়া অসুস্থতাজনিত বিশেষ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সুবিধা এবং কর্মী মৃত্যুবরণ করলে এককালীন ৩০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। বীমার বার্ষিক প্রিমিয়াম মাত্র ২০০ টাকা।
এই কার্যক্রমে এক হাজার কর্মীর বীমা প্রিমিয়াম বহন করছে সাজেদা ফাউন্ডেশন ও রেকিট বাংলাদেশ (হারপিক), বাকি এক হাজার ৪৬৭ জনের ব্যয় দিচ্ছে ডিএনসিসি। চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সহযোগিতায় বীমা সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। অনুষ্ঠান শেষে উপকারভোগী পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের হাতে স্বাস্থ্যবীমা কার্ড তুলে দেয়া হয়।