জ্বালানি সঙ্কটে চট্টগ্রামে আটকা হাজারো মাছধরা ট্রলার
Printed Edition
এস এম রহমান পটিয়া-চন্দনাইশ(চট্টগ্রাম)
বিশে^ চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশে সেব ক্ষেত্রে জ¦ালানি সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। জ্বালানি সঙ্কটে পড়েছে সাগর ও নদীতে মাছ আহরণে নিয়োজিত চট্টগ্রামের হাজারো মাছ আহরণে নিয়োজিত ছোট-বড় ফিশিং ট্রলারগুলো। এতে ঘাটে ঘাটে অলস পড়ে রয়েছে মাছ আহণের ট্রলারগুলো। ফলে চট্টগ্রামের লাখ লাখ জেলে ট্রলার মালিক চরমভাবে আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রলার মালিক সমিতি।
সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে প্রতি ট্রলার ভেদে সাগর ও নদীতে মাছ আহরণে যেতে হলে কমপক্ষে আড়াই হাজার লিটার থেকে ছয় থেকে সাত হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন। সেক্ষত্রে বর্তমানে তেল পাওয়া যাচ্ছে অর্ধেকের চেয়ে কম। ফলে বাধ্য হয়ে ট্রলারগুলো ঘাটেই নোঙর করে রাখা হয়েছে। এতে ট্রলার মালিকরা যেমন ক্ষতির মুখে পড়েছে তেমনি চরম দুর্দশায় ও আর্থিক সঙ্কটে রয়েছে চট্টগ্রামের জেলে পরিবারগুলো।
সরেজমিন নগরীর বিভিন্ন ঘাটে, বাঁশখালীর সনুয়া, শেখেরখীল, চাম্বল, আনোয়ারার রায়পুরের গহিরা, পূর্ব গহিরা, সারেঙগা, সাপমারা খালসহ জেলার বিভিন্ন উপকূলে তেলের সঙ্কটে শত শত মাছ আহরণের ট্রলারগুলো অলস পড়ে রয়েছে। বাঁশখালী শেখেরখীল ট্রলার মালিক সিমিতির সভাপতি এয়ার আলী জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা তেল সঙ্কটে পড়েছেন। তিনি বলেন, আগে যেখানে ২০০ ব্যারেল তেল নিতে পারতেন সেখানে এখন পাচ্ছেন মাত্র ৫০ থেকে ৪০ ব্যারেল করে। কিন্তু প্রয়োজন পাঁচ হাজার থেকে সাত হাজার লিটার ডিজেল। ট্রলার মালিকরা লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন। আর্থিকভাবে চরম সঙ্কটে পড়েছেন উপকূলের হাজারো জেলে পরিবার।
সমুদ্র অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামসহ সমগ্র দেশে যান্ত্রিক ও আর্টিসনালসহ ২৯ হাজার ৬৭১টি ট্রলার রয়েছে এর মধ্যে প্রায় ৯০ ভাগ সক্রিয় রয়েছে মাছ আহরণের কাজে। অপরদিকে দেশে বাণিজ্যিক মৎস ও চিংড়ি ট্রলারের সংখ্য রয়েছে ২৬৭টি এর মধ্যে সচল রয়েছে অন্তত ২২০টির মতো। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুমুদ্র অধিদফতর চট্টগ্রামের জরিম কর্মকর্তা জহিরুল হক।