মহাসড়ক-ফুটওভার ব্রিজেই বাজার ইজারা, ভোগান্তিতে পথচারী
Printed Edition
আব্দুল আজিজ জয়দেবপুর (গাজীপুর)
গাজীপুরে মহাসড়ক, ফুটপাক ও ফুটওভার ব্রিজ দখল করে বসা বাজার ইজারা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়াই এসব বাজার পরিচালিত হওয়ায় প্রতিদিন যানজট, পথচারীদের দুর্ভোগ এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অথচ এসব বাজার থেকেই রাজস্ব আদায় করছে গাজীপুর সদর উপজেলা প্রশাসন।
জানা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জয়দেবপুর থানার ভবানীপুর বাজার ও বাঘের বাজার এবং হোতাপাড়া-পিরুজালী ও মির্জাপুর-ভবানীপুর সড়কের ওপর মনিপুর বাজার দীর্ঘদিন ধরে সড়ক ও ফুটপাথ দখল করে বসছে। এসব বাজারের জন্য সরকারি কোনো নির্দিষ্ট জায়গা নেই। তবু প্রতিদিন মহাসড়ক, ফুটপাথ এমনকি ফুটওভার ব্রিজের ওপরও দোকান বসানো হচ্ছে। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে চরম বিঘœ ঘটছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনসাধারণের জন্য বাজারের নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ না করেই এসব বাজার ইজারা দিয়ে অবৈধ দখলকে কার্যত বৈধতা দেয়া হয়েছে। এতে প্রতিদিন যাতায়াতকারী হাজারো মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলায় আটটি বাজার ইজারা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে মির্জাপুর বাজার ৮১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, ফকিরবাড়ী বাজার ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, পিরুজালী হাটখোলা বাজার ৬ হাজার টাকা, মনিপুর বাজার ৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ভবানীপুর বাজার ২৬ লাখ টাকা, বাঘের বাজার ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা, কুমুন বাজার ৪০ হাজার টাকা এবং বাড়ীয়া বাজার ৭ হাজার টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছে।
এর মধ্যে মনিপুর, ভবানীপুর ও বাঘের বাজারের কোনো নির্ধারিত জায়গা নেই। ফলে প্রতিদিন সড়ক ও মহাসড়কের ওপর দোকান বসছে। এ তিনটি বাজার থেকেই আগামী এক বছরে ৭১ লাখ ১০ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করছে উপজেলা প্রশাসন।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর বাজারের নামে ৩ দশমিক ৭৪ একর জমি থাকলেও এর বড় অংশ অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে। বাজারে ৩৮৬টি চান্দিনা ভিটি থাকলেও ইজারা দেয়া হয়েছে মাত্র ৭৭টি। বাকি ৩০৯টি ভিটি অবৈধ দখলে রয়েছে। বছরে প্রায় কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হলেও বাজারের অবকাঠামো উন্নয়ন বা অবৈধ দখল উচ্ছেদে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেন বলেন, রাজস্ব আদায়ের জন্যই বাজারগুলো ইজারা দেয়া হয়েছে। তবে বাজারের নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় যে ভোগান্তি হচ্ছে, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মঈন খান এলিস বলেন, অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে, পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।