দ্বিমুখী লড়াইয়ে বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ

চাঁদপুর-৩ আসন

Printed Edition

চাঁদপুর প্রতিনিধি

চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে এবারের নির্বাচনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। হাটবাজার, চা-দোকান কিংবা জনসমাগম এলাকায় এখন আলোচনার কেন্দ্রে রাজনীতি। এ আসনে কে হচ্ছেন পরবর্তী সংসদ সদস্য এ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে বাড়তি আগ্রহ। এবারের নির্বাচনকে ঘিরে চাঁদপুর-৩ আসনে রাজনৈতিক কৌতূহল অন্যবারের তুলনায় অনেক বেশি। কারণ, দীর্ঘ দিন ধরে আ’লীগ-বিএনপির দখলে থাকা এ আসনে এবার কে হবেন সংসদ সদস্য, কৌতূহল তৈরি হয়েছে ভোটারদের মধ্যে। জনগণের আস্থা ও দলীয় সমর্থন নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়তে চায় জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো: শাহজাহান মিয়া।

২০০১ সালের পর থেকে বিএনপি এ আসনে কোনো প্রার্থীকে সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী করতে পারেনি। দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের বাইরে অন্য কোনো দল এ আসনে জয় পায়নি। তবে এবারের পরিবর্তীত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেই ধারাবাহিকতা ভাঙার সুযোগ দেখছে বিএনপি। হারানো আসন পুনরুদ্ধারে দলটি ব্যাপক তোড়জোড় শুরু করেছে। এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হলেন জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। তবে দলের ভেতরেই নিজেদের মতানৈক্যের কারণে তৃণমূলে অসন্তোষ বাড়ছে। এর আগে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বিএনপির মনোনয়ন পেলেও তিনি বড় ব্যবধানে পরাজিত হন। তবে অভ্যন্তরীণ বিরোধ মিটিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারলে এবার বিএনপির হারানো আসন পুনরুদ্ধার সম্ভব- এমন প্রত্যাশাও রয়েছে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে।

অন্য দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও এ আসনে তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দলটির প্রতি ভোটারদের ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হলেন সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও চাঁদপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো: শাহজাহান মিয়া। আসনটিতে আওয়ামী লীগের কর্মী ও সমর্থকদের ভোট একটি বড় ফ্যাক্টর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজস্ব ভোট ব্যাংকের বাইরে যে প্রার্থী এ ভোটারদের সমর্থন আদায় করতে পারবেন, তিনিই শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থাকবেন।

সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো: শাহজাহান মিয়া গত প্রায় ২৫ বছর ধরে সদর ও হাইমচর উপজেলায় বিভিন্ন স্কুল, মাদরাসা, মসজিদ, মন্দিরসহ সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহায়তা করে আসছেন। পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে তিনি এলাকায় একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। এ কারণেই তার প্রতি ভোটারদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। সুসংগঠিত দলীয় কাঠামো ছাড়া দুই উপজেলায় ভোটের মাঠে জয়ী হওয়া তার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে তার সমর্থক ও অনুসারীদের দাবি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।